ছেলের মরদেহ বুকে জড়িয়ে কাঁদতে চান বাবা


প্রকাশিত: ০৯:০৪ এএম, ৩১ আগস্ট ২০১৫

লিবিয়ার উপকূলে নৌকা ডুবির ঘটনায় বাংলাদেশিদের মধ্যে রাজবাড়ীর নিহত মফিজ খানের (২১) বাড়িতে এখন শুধুই শোকের মাতম। এতে ওই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনয়নের পূর্ব শম্ভুর কান্দি গ্রামের মো. নজরুল খানের ছেলে মফিজ খান সাড়ে সাত বছর আগে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে লিবিয়াতে গিয়েছিলেন। তিন বছর আগে দেশে এসে যাবার সময় বলেছিলেন আবার বাড়ি এসে নতুন ঘর তুলবেন এবং পা রাখবেন নতুন জীবনে, গড়বেন সুখের সংসার। তার এ স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল।

নিহত মফিজের বাবা একজন দিনমজুর। ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে মফিজকে দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে পাঠিয়েছিলেন বিদেশে। এক বছর আগে মফিজ তার ছোট ভাই টুটুলকে লিবিয়ায় নিয়ে যান। ছোট ভাইকে লিবিয়ায় নেবার পর সেখানে অবস্থানরত বাঙালি দালালের মাধ্যমে পাঠান ইতালিতে। দালাল চক্রের মাধ্যমে নৌকাযোগে ছোট ভাই টুটুলের কাছে যাবার জন্য রওয়ানা হয়েছিলেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ভুমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে তার মৃত্যু হয়।

নিহত মফিজের মা আলেয়া বেগম জানান, গত সোমবার তার ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। বলেছিল ঈদুল আযাহায় নাও আসতে পারে তবে কাজ সম্পূর্ণ করে বাড়ি আসবে।

নিহত মফিজের বাবা নজরুল খান বলেন, তার আর কোনো চাওয়া নেই। সে যেন তার ছেলে মফিজকে শেষবারের মতো একবার দেখতে পারেন। মফিজের মরদেহটি বুকে জড়িয়ে কাঁদতে পারেন। আমার ছেলের মরদেহ এনে দেন আপনারা।

রুবেলুর রহমান/এমজেড/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।