ভালোবাসার বিয়ের করুণ পরিণতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৫:২৮ পিএম, ০৩ জুন ২০১৯

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ছিলারকান্দি গ্রামে সুমাইয়া আক্তার (২৫) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ওই নববধূর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে ওই নববধূর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ছিলারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মতি শেখের ছেলে রাসেল শেখ (২৭) সাত মাস আগে জেলার মধুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের আলাল শেখের মেয়ে সুমাইয়া আক্তারকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পার হতেই দুইজনের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। সুমাইয়া চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

সুমাইয়া আক্তারের বাবা আলাল শেখ বলেন, রাসেল ও সুমাইয়া ভালোবেসে বিয়ে করে। প্রথমে আমরা মেনে না নিলেও পরে মেনে নিই। আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে যাতায়াতও শুরু হয়। কিছুদিন আগে সুমাইয়া আমাকে বলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা। আমি মেয়েকে বুঝিয়ে শুনিয়ে বলি মানিয়ে চলতে।

তিনি বলেন, মাঝে মধ্যেই সুমাইয়াকে মারপিটও করতো রাসেল। সোমবার বেলা ১১টার দিকে আমাদেরকে মোবাইলে জানানো হয় সুমাইয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা তারাতারি সুমাইয়ার শশুরবাড়ি এসে দেখতে পাই সুমাইয়া ঘরের ভেতর মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে গেছে।

সুমাইয়ার মা হেলেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে হত্যার বিচার চাই। আমার কোল খালি করেছে রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা। সুমাইয়া চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। কতটা পাষণ্ড ওরা যে অন্তঃসত্ত্বা বউকে মেরে ফেললো।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশের এসআই শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছি। এ ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা অভিযোগ দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বি কে সিকদার সজল/আরএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]