টঙ্গীতে জাপার যুগ্ম মহাসচিবের বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:২০ এএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২০

সদ্য ঘোষিত জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব নূরুল ইসলাম দিপুর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় ভাঙচুর করে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে টঙ্গীর পূর্ব গোপালপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নূরুল ইসলাম দিপু টঙ্গীর জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা ও গাজীপুর-২ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। একই হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডের আসামি হয়ে কারাগারে আছেন দিপুর ভাই শহিদুল ইসলাম শিপুও।

শিপুর স্ত্রী শরিফা খানম সুমি জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কয়েকশ লোক লাঠিসোঁটা, রামদা, লোহার রড নিয়ে মিছিল সহকারে নূরুল ইসলাম দিপু ও তার ভাই শহিদুল ইসলাম শিপু এবং টিপুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে তারা শিপুর দোতলা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলায় বাড়ির ভাড়াটিয়াদের ঘরও রক্ষা পায়নি। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভায়। হামলাকারীরা বাড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ড ডিস্ক খুলে নিয়ে গেছে বলেও সুমি অভিযোগ করেন। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ সমর্থক নেতাকর্মী বলে তিনি জানান।

টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমান জানান, আগুনে বাড়ির দোতলার একটি ইউনিট পুড়ে গেছে এবং নিচ তলাসহ অন্যান্য ইউনিট ভাঙচুর করা হয়েছে। দমকলকর্মীদের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে আগুন অন্যান্য ইউনিটে ছড়াতে পারেনি।

উল্লেখ্য, আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি দিপুকে জাপার যুগ্ম সম্পাদক করায় টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছিল। এক পর্যায়ে তারা টঙ্গীতে জাতীয় পার্টি ও এর নেতাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। দিপু বর্তমানে ইউরোপে পলাতক রয়েছেন। এর আগে তিনি জাপার সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ২০০৪ সালে আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ড মামলায় আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বিএনপি ও জাপার নেতা কর্মীদেরকেও একই মামলায় আসামি করা হয়। দিপু তৎকালীন জাপার ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। কারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মো. আমিনুল ইসলাম/এফআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।