বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় আরও এক রোহিঙ্গা উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১১:২৭ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় আরও এক রোহিঙ্গাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেছে কোস্টর্গাড। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে সেন্টমার্টিনের বঙ্গোপসাগর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে ৭৩ জনকে জীবিত ও ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম মো. আব্দুল্লাহ। তিনি টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত আব্দুস শুকুরের ছেলে।

কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. সোহেল রানা বলেন, সেন্টমার্টিন কোস্টর্গাড স্টেশনের একটি টিম সকালে বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অবস্থার উন্নতি হলে তাকে টেকনাফ নেয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭৩ জনকে জীবিত এবং ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। ওই ট্রলারে ১৩৮ জনের মতো লোক ছিল। নিখোঁজদের উদ্ধারে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

এদিকে মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া টেকনাফের শামলাপুর ক্যাম্পের তরুণী খতিজা বেগম বলেন, বাবা নেই, তাই যৌতুক দিয়ে বিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে না। ভবিষ্যৎ অন্ধকার চিন্তায় জীবনটা এলোমেলো চলছে। পরিচিতদের মাধ্যমে জেনেছি, মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ও প্রবাসীরা বিনা যৌতুকে তরুণীদের সম্মান দিয়ে বউ করে নেন। সংসারি হতেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে মালয়েশিয়া পাড়ি দিচ্ছিলাম। কিন্তু ভাগ্য আমাদের সহায় হয়নি।

একই কথা বলেন মধুরছড়া ক্যাম্প থেকে ট্রলারে ওঠা রোকসানা বেগম, জাদিমুরার হোসনে আরা, লম্বাশিয়ার ইয়াসমিন। তারা বলেন, ক্যাম্পে জীবনটা বিষিয়ে উঠেছে। স্বজাতিরাই অসহনীয় আচরণ করে। এখানে সময়টা অতিবাহিত হলেও বুড়িয়ে যেতে হচ্ছে। তাই পরিচ্ছন্ন ভবিষ্যতের সন্ধানে আমরা ঝুঁকি নিয়েছি।

আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।