৯৯৯-এর সেবায় বাঁচল মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০২:০৬ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সেন্টমার্টিনের কাছে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারের বেশির ভাগ যাত্রী জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ এর কল্যাণে বেঁচে গেছেন বলে জানা গেছে। ডুবন্ত ট্রলারে থাকা আবদুল (২৮) নামে এক যুবকের দেয়া তথ্যমতে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী দ্রুত অভিযান চালাতে সক্ষম হওয়ায় ৭৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। কঠিন বিপদের সময় ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করার কথা আবদুলের মাথায় কীভাবে এল এনিয়ে চলছে নানা আলোচনা। পাশাপাশি সরকারের ডিজিটাল এ সেবাকে সাধুবাদও জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে সেন্টমার্টিন সাগরে মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ট্রলারটিতে পানি ঢুকে ধীরে ধীরে ডুবে যায়। পরে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা অনুসন্ধান চালিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭১ জন এবং রাতে ও বুধবার সকালে আরও তিনজনসহ মোট ৭৪ জনকে জীবিত এবং ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। ট্রলারটিতে ১৩৮ জন যাত্রী ছিল বলে কোস্টগার্ডকে জানিয়েছে উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা।

মঙ্গলবার কোস্টগার্ডদের তৎপরতায় জীবিত উদ্ধার ৭১ যাত্রীর একজন আবদুল। তিনি উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি কাজের সন্ধানে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন। ট্রলারটি ডুবে যাচ্ছে দেখে তিনিই জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন।

আবদুল সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১৩৮ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া সৈতক এলাকা থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে বড় একটি ট্রলারে নিয়ে যায় দালালরা। ভোররাতের দিকে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণের দিকে গিয়ে প্রবল বাতাসে পড়েন তারা। সামনে আগানো সম্ভব না হওয়া ছেঁড়াদ্বীপের দিকে আসতে গিয়ে ট্রলারটি নিচে কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে তলা ফেটে ট্রলারটিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। এ সময় দালাল ও মাঝি-মাল্লারা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, হঠাৎ মাথায় আসে ৯৯৯ নম্বরে কল করলে তো জরুরি সেবা মিলে। আমি ফোন দিয়ে বাঁচার আকুতি জানালে সেখান থেকে টেকনাফের কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার সোহেল রানার নম্বর দেয়া হয়। পরে তার সঙ্গে (লে. কমান্ডার সোহেল রানা) ফোনে কথা বলে বিস্তারিত জানাই। তবে কোস্টগার্ডের অনুসন্ধানী দল খুঁজে পাওয়ার আগেই ট্রলারটি ডুবে যায়।

উদ্ধার তৎপরতা বিষয়ে টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার সোহেল রানা জানান, ভোর ৫টায় মালয়েশিয়াগামী এক যাত্রী কান্নাকাটি করে ফোন দেন ও বাঁচার আকুতি জানান। আবদুল নামে ওই যাত্রী জানান- ১৩৮ জন ট্রলারে করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। পথে ট্রলারটি পাথরে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যাচ্ছে। পরে তার দেয়া তথ্যমতে দুটি অনুসন্ধানী দল কাজে নামে। সকাল ৭টায় ডুবন্ত ট্রলারটিকে খুঁজে পান কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে মঙ্গলবার ৭১ জনকে জীবিত ও ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন তারা। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে আরও তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আরও বেশকিছু লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে দাবি করায় তাদের উদ্ধারে কাজ করছেন কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, সরকারের ডিজিটাল সেবায় মানুষ উপকৃত হচ্ছে এটা তারই নমুনা। ৯৯৯ সেবাটি না থাকলে আর আবদুল সেখানে কল না দিলে হয়তো লাশের মিছিল আরও দীর্ঘ হতো। আল্লাহ আবদুলকে উচিলা হিসেবে ব্যবহার করে হয়তো এতগুলো প্রাণ বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে মালেয়শিয়াগামী রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। টেকনাফ থানায় দায়ের হওয়া এ মামলায় মঙ্গলবার আটক চার দালালসহ তাদের সহযোগী আরও ১৫ জনকে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।