মহাসড়কের গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে অসাধু চক্র
ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দা উপজেলার বাসাগাড়ি নামক স্থানে মহাসড়কের দুই পাশে বনবিভাগের অসংখ্য গাছ কেটে ফেলেছে একটি অসাধু চক্র। পরে সড়ক বিভাগের কার্য সহকারীর নেতৃত্বে এসব গাছ বিক্রি করে দেয়া হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের কাছে। বিক্রি হওয়া ছোট বড় মিলিয়ে এসব গাছের দাম কয়েক লাখ টাকা। অথচ মাত্র সাত হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া এসব গাছের ব্যাপারে বনবিভাগ কিছুই জানে না।
ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ডাঙ্গি ইউনিয়নের বাসাগাড়ি হতে কাজি বাড়ির মধ্যবর্তী ১২৯০ মিটার অংশে ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কের সংস্কারকাজ চলছে।

কাজের তদারকিতে নিয়োজিত ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, সংস্কারকাজ চলাকালে ভেকু মেশিন চালনার সুবিধার্থে মহাসড়কের মধ্যে চলে আসা উভয় পাশের কিছু ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু কোনো গাছ কাটা হয়নি। এসব ডাল কেটে নেয়ার জন্য বনবিভাগকে লিখিতভাবে অনুরোধও জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের উভয় পাশে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০টির মতো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব গাছের প্রায় অনেকগুলো ভেকু মেশিন দিয়ে মাটির গভীর হতে উপড়ে ফেলা হয়েছে। কিছু গাছের শেকড়সহ নিয়ে গেছে। পাশাপাশি কেটে ফেলা কিছু গাছ; যা এখনও সেখানে পড়ে আছে।

ডাঙ্গি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য সেকেন্দার আলী বলেন, গাছ কাটার পর কিছু গাছ ইউনিয়ন পরিষদকেও দেয়া হয়। এসব দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ব্যানার ও ফেস্টুন বানানো হবে। এসব গাছ আনতে সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্য সহকারী (ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট) জিন্নাত আলীর নেতৃত্বে রাতের আঁধারে এসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ওই স্থানটি নির্জন হওয়ায় স্থানীয়রা বিষয়টি তেমনভাবে জানতে পারেননি। তবে জিন্নাত আলী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, সড়ক বিভাগ থেকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা এখনও সেখানে গাছ কাটার কোনো অনুমতি দেইনি। কেউ যদি সেখানে অনুমতি ছাড়া গাছ কেটে নেয় তাহলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
বি কে সিকদার সজল/এএম/এমএস