ভিডিও দেখে স্কুলছাত্র অংকনের মৃত্যুর রহস্য খুঁজছে পরিবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৪:১৮ এএম, ৩০ মে ২০২০

করোনার উপসর্গ নয়, নির্যাতনের ভয় ও জ্বরে রাজবাড়ী পৌর ভাজচালার ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া অংকন দত্তের (১৩) মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। সে রাজবাড়ী পৌর ভাজচালার বিপ্লব দত্তের ছেলে ও শহরের অঙ্কুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র।

২১ মে অংকন করোনার উপসর্গ নিয়ে রাজবাড়ী তার নিজ বাড়িতে মারা যায়। পরে অংকন, তার পরিবার ও প্রতিবেশীসহ ১০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। ওইদিনই অংকনের মরদেহ রাজবাড়ী মহাশ্মশানে সমাহিত করা হয়।

এদিকে ২৪ মে অংকনের করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসার পর মোবাইল ফোনের একটি ভিডিও নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওটিতে শুধু অংকন ও রিজভীকে দেখা গেছে। ভিডিওটি ভাজনচালা এলাকার একটি পুকুর পারের বলে জানাগেছে।

এক মিনিট একত্রিশ সেকেন্ডের ভিডিওর শুরুতেই রিজভী বলছে, আমাদের অন্তু কর্মকার দাদা, ছোট ছোট পোলাপানদের গাঁজা খাওয়ায়। অনেক টাকা পয়সা তার। এদের মধ্যে আমি একজনকে পাকড়াও করেছি। তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। নাম বল- বলেই স্ক্রিনে আসে অংকনের মুখ। এ সময় অংকন বলে রেলের মাঠ থেকে অন্তু দা আমার কাছ থেকে সিগারেট নিয়েছে এবং বলেছে এক প্যাকেট ব্যানসন দিবি, নইলে তোর বাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকা নিবো। ছাদের উপর নিশান, অভিসহ কয়েকজন গাঁজা বানায় খায়ছে। এ সময় অংকনকে বেশ কয়েকবার লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার রাতে অংকনের বাবা বিপ্লব দত্ত তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ করেন এবং তিনি দাবি করেন তার ছেলের নির্যাতনের ভয়ে জ্বর এসে মৃত্যু হয়েছে।

বিপ্লব দত্ত বলেন, ১৭ মে তার ছেলে জ্বর হয় এবং ক্রমেই বাড়তে থাকে জ্বর। ২১ মে সকালে অবস্থা বেশি খারাপ হলে সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। তখন ডাক্তাররা তার ছেলেসহ পরিবার ও প্রতিবেশীদের নমুনা নেন। পরবর্তীতে তার ছেলের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

তিনি আরও বলেন, যখন তার ছেলের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তখন তিনি নির্যাতনের ভিডিওর বিষয়টি ভাবেন। জ্বরের মধ্যে অংকন বাড়িতে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। ওই সময় তিনি তার চোখে মুখে ভয়ের ছাপ দেখেন। কিন্তু ভাবেন হয়তো জ্বরে এমন দেখাচ্ছে।

যখন অংকনের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তখন তিনি বুঝতে পারেন তার ছেলে করোনায় না, নির্যাতনের ভয় ও জ্বরে মারা গেছেন। এরপর তিনি নির্যাতনকারী পাশের এলাকার রিজভী, প্রতিবেশী অন্তু ও শুভর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।

রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে অংকনের বাবা ৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরেও ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছেন।

রুবেলুর রহমান/এমএএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]