ওসি প্রদীপসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে করা হত্যার অভিযোগ খারিজ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬:১৬ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২০

দীর্ঘ চার বছর পর আবারও স্বামী হত্যার মামলাটি দাঁড় করাতে ব্যর্থ হলেন কক্সবাজারের মহেশখালীতে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আবদুস সাত্তারের স্ত্রী হামিদা আকতার (৪০)। ২০১৭ সালে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে মামলার এজাহার দায়ের করে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায়ও তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করাতে পারেননি তিনি।

প্রদীপ কুমার দাশ মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকায় নিজের বিরুদ্ধে মামলা এফআইআর করতে দেয়া নির্দেশনাটি আইনি গ্যাড়াকলে উচ্চ আদালতেই আটকে দেন। সম্প্রতি সাবেক সেনা কর্তকর্তা সিনহা হত্যার ঘটনায় ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য কারান্তরীণ হওয়ার পর আশায় বুক বেঁধে বুধবার (১২ আগস্ট) তৎকালীন মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ ও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে সাত্তার হত্যার অভিযোগ এনে একটি এজাহার দাখিল করেন হামিদা।

মহেশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্বাস উদ্দীনের আদালত নিহত সাত্তারের স্ত্রী হামিদা আকতারের দায়ের করা এজাহারটি আমলে নিয়ে বক্তব্য শুনে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর তা মামলা হিসেবে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ফেরত দিয়েছেন।

আদালত জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে মামলাটি এজাহার হিসেবে এখান থেকে নেয়া যাচ্ছে না।

সাত্তার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চার বছর আগে পুলিশের পক্ষে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে দায়ের করা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর মামলাটি সিআইডির এএসপি মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন বিচারক।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে মহেশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্বাস উদ্দীন এ আদেশ দেন বলে জানান বাদীর আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, আবদুস সাত্তার হত্যায় দায়ের করা ফৌজদারি দরখাস্তটি আমলে নিতে অপারগতা জানিয়েছেন আদালতের বিচারক আব্বাস উদ্দিন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে দায়েরকৃত রিট অনিষ্পত্তি অবস্থায় রয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) হামিদা আক্তারের দায়েরকৃত ফৌজদারি দরখাস্তে মহেশখালীর ফেরদৌস বাহিনীর প্রধান ফেরদৌস, থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই হারুনুর রশীদ, এসআই ইমাম হোসেন, এএসআই মনিরুল ইসলাম, এএসআই শাহেদুল ইসলাম ও এএসআই আজিম উদ্দিনসহ ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

হামিদা আক্তার জানান, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টার দিকে ফেরদৌস বাহিনীর সহায়তায় হোয়ানকের লম্বাশিয়া এলাকায় তার স্বামী হোয়ানক পূর্ব মাঝেরপাড়ার মৃত নুরুচ্ছফার ছেলে আবদুস সাত্তারকে হত্যা করা হয়। ওই সময় এ ঘটনায় থানায় মামলা না নেয়ায় উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। রিট পিটিশন নং-৭৭৯৩/১৭ মূলে ‘ট্রিট ফর এফআইআর’ হিসেবে গণ্য করতে আদেশ দেন বিচারক। সেই আদেশের আলোকে তিনি একই বছরের ১৭ জুলাই কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে লিখিত দরখাস্ত দেন। কিন্তু পুলিশ আবেদন আমলে না নিয়ে উচ্চ আদালতের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে। আদালত আগের আদেশ বাতিল করে পুনরায় শুনানির কথা বলেন।

হামিদা আক্তার বলেন, “আমি চরমভাবে হতাশ হয়েছি। স্বামীর মৃত্যুর পর অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটছে। উচ্চ আদালতে যাওয়া অনেক টাকার বিষয়, তাই যেতে পারছি না। সিনহা হত্যায় ওসি প্রদীপ কারাগারে থাকায় আশা করছিলাম নিম্ন আদালতে আমার স্বামী হত্যার অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে বিচারের পথে হাঁটবে। কিন্তু আইনি গ্যাড়াকলে আমার আশায় ‘গুড়েবালি’। যদি সুযোগ হয় আবারও উচ্চ আদালতে যাব। না পারলে আল্লাহর ওপর ভরসা করে স্বামী হত্যার বিচারের অপেক্ষা করতে হবে।” 

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, নিহত আবদুস সাত্তার অস্ত্র ব্যবসায়ী ছিলেন। তাই বন্দুকযুদ্ধে তার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়ের করা এজাহারটি থানায় মামলা হিসেবে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল পুলিশ।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]