সিনহা হত্যা: রিমান্ডের আসামিদের তথ্য সুক্ষ্মভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১১:২২ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২০

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা আসামিরা গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

তিনি বলেন, তাদের দেয়া প্রত্যেকের তথ্য এবং সবখানের ঘটনাপ্রবাহ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেয়া হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের দেয়া তথ্য আপাতত প্রকাশ করা যাবে না।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টায় র‌্যাব ১৫ কার্যালয়ে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, সিনহা হত্যা মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। তাই অত্যন্ত সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম ইতিবাচকভাবে এগুচ্ছে।

তিনি বলেন, এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও নন্দদুলাল রক্ষিতসহ গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, আলামতসহ সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক বিষয় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, এই মামলার তদন্ত বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য আসামিদের বক্তব্য, ঘটনার আলামত, তথ্য-উপাত্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যসহ যা যা দরকার সব নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসবের অধিকাংশই আমরা সম্পন্ন করেছি। সর্বশেষ আজ (বুধবার) তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ কর্তৃক জব্দ করা হার্ডডিস্ক ডিভাইসসহ ২৯টি সামগ্রী আমাদের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামীকাল সেগুলো আমরা হাতে পাব বলে মনে করছি।

অন্যদিকে সিনহার বোনের দায়ের করা মামলার নয় আসামির মধ্যে যে দুইজন গ্রেফতার হয়নি তাদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

টেকনাফ থানা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাবের মিডিয়া প্রধান বলেন, অঘটন ঘটলে যে কেউ এমন ঘটনা ঘটায়। সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবও এমন ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ার জন্য আমরা আদালতের কাছে আবেদন করেছি। আশা করছি তাও পেয়ে যাব।

পুলিশ সুপারসহ বেশ কয়েকজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, মামলার তদন্তে যাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য দরকার তাদের ব্যাংক হিসাব সম্পর্কে আমরা তথ্য নেব।

প্রসঙ্গ, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ। সে সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। দুজনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত।

এ ঘটনায় ওসি প্রদীপসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা এবং পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষী প্রথমে কক্সবাজার জেলা কারাগার ও পরে আদালতের সাতদিনের রিমান্ড আদেশের প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব হেফাজতে রয়েছে।

সর্বশেষ বাংলাদেশ আর্মড পুলিশের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে আটকের পর আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ প্রত্যেক আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সায়ীদ আলমগীর/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।