কক্সবাজার সৈকতে পর্যটক নিখোঁজ, সোনাদিয়া দ্বীপে মিলল লাশ
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে এসে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে নিখোঁজ মাদরাসা শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহফুজের (১৮) মরদেহ দুইদিন পর সোনাদিয়া দ্বীপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে দ্বীপের চরে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তা মঙ্গলবার নিখোঁজ হওয়া মাহফুজ বলে শনাক্ত করেন। এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান জাহিদ।
শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহফুজ (১৮) চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কানি নিয়াজি এলাকার দুবাইপ্রবাসী মাহবুবুল আলমের ছেলে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে ২৪ জন বন্ধুর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে আসে মাহফুজ। বিকেলে তারা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে বের হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বন্ধুরা মিলে সমুদ্রে গোসলে নামে। একপর্যায়ে ঢেউয়ের টানে মাহফুজ তলিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সোনাদিয়া থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজ মাহফুজের বন্ধু হুমায়ুন জানায়, তারা ২৪ জন মিলে একটি বাসে করে কক্সবাজার বেড়াতে আসে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৪টার দিকে তারা সৈকতের লাবণী পয়েন্টে গোসল করতে নামে। গোসল করার একপর্যায়ে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যায় মাহফুজ। তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে গিয়ে বন্ধু জিহাদও ভেসে যাচ্ছিল। তখন বিষয়টি অন্যদের নজরে আসে। পরে সাগরে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিচ কর্মীদের জানানো হয়। জিহাদ উঠে এলেও মাহফুজ ডুবে যায়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রকৌশলী ইমরান জাহিদ বলেন, মঙ্গলবার পর্যটন সেলের দায়িত্বরত বিচ কর্মীদের নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে বিচ ও হোটেল-মোটেল এলাকায় কাজ করছিলাম। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে খবর আসে এক শিক্ষার্থী ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে গেছে। তাৎক্ষণিক লাইফগার্ড ও বিচ কর্মীদের দিয়ে সাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হয়। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও তার খোঁজ মেলেনি। বৃহস্পতিবার সকালে খবর আসে মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে একটি ভাসমান মরদেহ পাওয়া গেছে। বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধারের পর স্বজনরা নিখোঁজ মাহফুজ বলে শনাক্ত করেন। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/জেআইএম