যশোরে বাকপ্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের পর হত্যা, একজনের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
ফাইল ছবি

যশোরে বাকপ্রতিবন্ধী রত্না খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় হাবিবুর রহমান নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ মামলার অপর আসামি মন্টুকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

সোমবার যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) টিএম মুসা এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাবিবুর রহমান খাঁ সদর উপজেলার সালতা গ্রামের আবুল কাশেম খাঁর ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, সদর উপজেলার সালতা গ্রামের শহর আলীর বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে রত্না খাতুন প্রতিবেশী আকবর আলী মাস্টারের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো। সেই সুবাধে হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

২০১৭ সালের ২৮ মে রত্নাকে এলাকার বুড়ো মার মাজারের দিকে ডেকে নিয়ে যায় হাবিবুর ও মন্টু। এ সময় খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি দেখে ওই দুইজনের কাছে জানতে চান রত্নাকে তোমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?

জবাবে হাবিবুর জানায়, এক ঘণ্টা পর ফিরে এসে তোমার সঙ্গে কথা বলবো। খাইরুল ইসলাম বিষয়টি রত্নার বাবাকে জানান। রত্নার বাবা তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে হাবিবুর ও মন্টুকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু তিনি কাউকে খুঁজে পাননি।

৩১ মে এলাকার মেজের মোল্যার মাজারের পাশে রত্নার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রত্নার বাবা শহর আলী বাদী হয়ে হাবিবুর রহমান ও মন্টুর বিরুদ্ধে যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

মামলাটি আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ এফআইআর করে। তদন্ত শেষে হাবিবুর রহমান ও মন্টুর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে তদন্ত কর্মকর্তা।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার আসামি হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন বিচারক। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে এ মামলার অপর আসামি মন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে দায় থেকে খালাস দেয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম ইদ্রীস আলী।

মিলন রহমান/এমএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]