সময়মতো চাল সরবরাহ না করায় ১৭৬ মিল কালো তালিকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৯:১১ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১৪ হাজার ৫৯৬ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় পেয়েও এ মৌসুমে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

সময় বৃদ্ধির পরেও ৮ হাজার ৯১৭ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ হয়েছে আর বাকি ৫ হাজার ৬৭৮ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এবার চাল সংগ্রহ অভিযান সফল হয়নি। এতে চাল সরবরাহ না করায় ১৭৬টি মিল কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ৫৯৬ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। তালিকাভুক্ত ৪৯৩টি মিলারের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ৩১৭ জন মিলার।

উপজেলায় চাল সংগ্রহের নির্ধারিত তারিখ ৩১ আগস্ট অতিবাহিত হওয়ার পর সরকারিভাবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ চাল সংগ্রহ অভিযানের সময় বৃদ্ধি করা হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহ অভিযান সফলের লক্ষে উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ইউএনও এসএম জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে মিলারদের সঙ্গে বৈঠক করেও মিলারদের সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করাতে ব্যর্থ হন। সময় বৃদ্ধির পরেও ১৭৬ জন মিলার সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া থেকে বিরতই থাকে।

উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাজারে চালের দর ৪০ টাকা কেজি। অপর দিকে সরকারি দর নির্ধারণ করা হয় ৩৬ টাকা। চুক্তিবদ্ধ মিলাররা সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করে কেজি প্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা হারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত না হতে চলতি বোরো মৌসুমে অনেক মিলার সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া থেকে বিরত থাকেন।

এদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখা চলতি বোরো মৌসুমের চুক্তিবদ্ধ চাল সরবরাহকারী মালিকদের মূল্যায়ন এবং চুক্তিবদ্ধ না হওয়া মিল মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত ১৯ আগস্ট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে প্রেরিত খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ স্বাক্ষরিত পত্রে উপজেলার চলতি বোরো মৌসুমের চুক্তিবদ্ধ চাল সরবরাহকারী মিল মালিকদের অধিদপ্তর থেকে মূল্যায়ন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ না হওয়া মিল মালিকদের সরকারি চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অসহযোগিতা করার অভিযোগে লাইসেন্স স্থগিতসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কেএম গোলাম রাব্বানী জানান, উপজলোয় সময় বৃদ্ধির পরে ৮ হাজার ৯১৭ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। বিভিন্নভাবে মিলারদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে এবং মিলাররা সহযোগিতা না করায় ৫ হাজার ৬৭৮ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, সময় বৃদ্ধির পরেও চাল সংগ্রহ অভিযানে সরকারকে সহযোগিতা না করায় উপজেলার ১৭৬টি মিল কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের নামের তালিকা খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিবে পরবর্তীতে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।