রায়হান হত্যা : দুই দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে কনস্টেবল টিটু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২০

সিলেট নগরের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় তিনদিনের রিমান্ড শেষে ওই ফাঁড়ির বরখাস্ত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমানের আদালতে তাকে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম। আদালতে টিটু চন্দ্র দাস স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

সিলেট মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য ভূষণ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর দুপুরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে সিলেট পুলিশ লাইন্স থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। ওই দিনই তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে গত ২৫ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তখন কনস্টেবল টিটু ওই ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে ওইদিনই দ্বিতীয় দফায় আরও তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। দ্বিতীয় দফায় তিনদিনের রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আবারও টিটু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আলোচিত এই মামলায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্ত আরেক কনস্টেবল হারুনুর রশীদকে গত ২৪ অক্টোবর পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। তিনি বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রিমান্ড শেষে হারুনকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

১৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশ পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর দুপুরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় ওই ফাঁড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ও ২৩ অক্টোবর কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে গ্রেফতারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) কনস্টেবল টিটুকে ফের তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই।

ঘটনার দিন বিকেলে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি। তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করে তাদের পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

এছাড়া গত ২১ অক্টোবর এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁড়ি হতে পালাতে সহায়তা করা ও তথ্য গোপনের অপরাধে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির টু আইসি এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ছামির মাহমুদ/আরএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]