হামলা-সংঘর্ষে শেষ হলো ফরিদপুর পৌর নির্বাচন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০২০

সংঘর্ষ, সাংবাদিকের ওপর হামলা, দুই কাউন্সিলর প্রার্থী আহত ও বিএনপি ও আ.লীগের মেয়র প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৭টি ওয়ার্ডের বর্ধিত এ পৌরসভার ৬৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়।

ভোট চলাকালে বিকেল পৌনে ৩ টার দিকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে ফরিদপুর শহরের সরকারি ইয়াছিন কলেজ কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন ফয়সাল (ডালিম) এবং মো. আরিফুল ইসলামের (গাজর) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে কাউন্সিলর প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আহত হন। পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ ও পরে শটগানের পাঁচটি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পূরবী গোলদার বলেন, দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মারামারির ঘটনায় এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ শটগানের পাঁচটি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে দুপুর পৌনে ১টার দিকে শহরের সাজেদা কবির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নায়াব ইউসুফ গেলে সেখানে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথা হয়। নায়াব ইউসুফ ভোটের পরিবেশ নিয়ে আপত্তি দিলে প্রিসাইডিং অফিসার ও উপস্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বাদানুবাদ হয়। এ বিষয়টি ভিডিওতে ধারণ করার কারণে ছাত্রলীগ সমর্থকদের রোষানলে পড়েন সাংবাদিকরা। ছাত্রলীগ সমর্থকরা দৈনিক দিনকাল প্রতিনিধি নূরুল ইসলাম আঞ্জুকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। তার র মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম অহিদের সাংবাদিক কার্ড ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নায়াব ইউসুফের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। নায়াব ইউসুফের মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, এ ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ওই সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন।

তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

অন্যদিকে দুপুর দেড়টার দিকে শহরের আল আমিন পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনান (ডালিম) ও মো. বাহালুল দিনার সাঈদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দু’জনকে ঢাকায় স্থনান্তর করা হয়।

শহরের কমলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মৃধা কাউন্সিল পদে নির্বাচন করেন ২২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। সকাল ৯টার দিকে তিনিসহ তার সমর্থকদের হামলায় আহত হন অপর কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন আহমেদ মিলার। তাকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া শহরের চুনাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও পূর্বখাবাসপুর শহীদ সালাহউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গোলযোগের খবরও পাওয়া যায়।

বিএনপি প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পাল্টা-পাল্টি সম্মেলন

বিকেলে ৫টার দিকে শহরের কমলাপুরস্থ নিজ বাসভবন ময়েজ মঞ্জিলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নায়াব ইউসুফ সংবাদ সম্মেলন করে পৌরসভার নির্বাচন প্রত্যাখান করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানান।

jagonews24

এ সময় নায়াব ইউসুফ জানান, এটি ছিল একটি স্থানীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রতিটি কেন্দ্রে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তিনি নিজেও একটি কেন্দ্রে গিয়ে নাজেহাল হয়েছেন। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়েছে।

এ নির্বাচন বাতিল করে শঙ্কামুক্ত পরিবেশে অবাধ ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।

এদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবে গিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী অমিতাভ বোস। তিনি নায়াব ইউসুফের বক্তব্যকে ‘উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও রাজনৈতিক বক্তব্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

অমিতাভ বলেন, সাংবাদিক আহত হবার বিষয়টি দুঃখজনক এবং এ জন্য দলের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা প্রর্থী। তবে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিএনপি প্রার্থী যা বলেছেন তা সত্যের অপলাপ মাত্র।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও নির্বাচনের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। বিপুল সংখ্যক ভোটার উপস্থিত হয়ে আনন্দ উদ্দীপনার সঙ্গে ভোট দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি মেয়র প্রার্থী নায়াব ইউসুফ আমাদের কাছে যদি কোনো লিখিত অভিযোগ দেন তবে তা খতিয়ে দেখা হবে।

বি কে সিকদার সজল/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।