সূচিকর্মে পারিশ্রমিক নিয়ে হতাশ কারিগররা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১১:৩৯ এএম, ০১ মে ২০২১

কেউ পরিবারের অর্থনীতিতে যোগান দিতে সূচিকর্মে মন দিয়েছেন। কেউবা শখের বশে এ কাজ করছেন। সূচিকর্মের মাধ্যমে তৈরি করা জিনিসপত্র বাজারে চওড়া মূল্যে বিক্রি হলেও এর কারিগররা উল্লেখযোগ্য মজুরি পান না। এ নিয়ে হতাশায় দিন পার করছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী জেনেভা ক্যাম্পে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন সালমা বেগম। তার স্বামী আসলাম সেলুনে (নরসুন্দর) কাজ করলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাগ ডিজাইনের (সূচিকর্মের) অর্ডার নেন। আর সংসারের কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে ব্যাগ ডিজাইনের কাজ করেন সালমা বেগম।

প্রযুক্তির উন্নতি ঘটার কারণে সূচিকর্মে আশানুরূপ পারিশ্রমিক পান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল না, তখন এ কাজের মূল্যায়ন ছিল।’

nare1

তিনি আরও বলেন, ‘সূচিকর্মের মাধ্যমে আমি বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ তৈরি করি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্ডার পেয়ে থাকি। ছয়টি ব্যাগ তৈরি করে ২৪০-২৫০ টাকা পারিশ্রমিক পাই। কিন্তু ছয়টি ব্যাগ তৈরি করতে প্রায় ছয় দিন সময় লাগে। মাসে ৩০টির মতো ব্যাগ তৈরি করতে পারি।’

পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় কম মজুরি হলেও এ কাজ করছেন জানিয়ে চার সন্তানের জননী সালমা বেগম বলেন, ‘একটি ব্যাগ বাজারে ৪০০-৫০০ টাকা বিক্রি হলেও তুলনামূলক খুব কম টাকা মজুরি পাই। এসব কাজ করতে সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন হয়।’

nare1

একই এলাকায় বসবাস করেন মাসুমা শারমিন। তিনি এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। শখের বশে তিনি সূচিকর্মের কাজ করছেন। এর মাধ্যমে মাসুমা থ্রি-পিসের বিভিন্ন ডিজাইন করেন। মাসুমা জানান, প্রতিদিন তিন থেকে চারটি থ্রি-পিস ডিজাইনের কাজ করতে পারেন। একটি ডিজাইনের জন্য মাত্র ২৫ টাকা করে পান। কিন্তু বাজারে থ্রি-পিসগুলো ৮০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে এসব কাজের বিনিময়ে অল্প টাকা পেলেও এ কাজ করতে ভালো লাগে বলে জানান মাসুমা।

দশম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার পরিবারের সঙ্গে আদমজী জেনেভা ক্যাম্পে থাকেন। বাবা সেলুনের (নরসুন্দর) কাজ করেন। মা গৃহিণী। মায়ের কাছ থেকে তিনি ব্যাগ ডিজাইনের কাজ শিখেছেন। সুমাইয়াও ব্যাগ ডিজাইনের কাজ করেন। এ কাজ করে মাসে ১২০০-১৩০০ টাক উপার্জন করেন। তার এ উপার্জিত টাকা তিনি নিজ পরিবারকে দিয়ে দেন।

nare1

শখের বশে এ কাজ করছেন জানিয়ে সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘আমার কাছে ব্যাগ ডিজাইনের কাজ করতে ভালো লাগে। লেখাপড়ার পাশাপাশি আমি এ কাজটা উপভোগ করি। তবে এ কাজের পারিশ্রমিক খুব কম।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি এখানে (সদর উপজেলায়) নতুন আসায় বিষয়টি জানি না। তবে আমি তাদের জন্য কিছু করা যায় কিনা দেখব।’

এস কে শাওন/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।