বিএনপি নেতার ২০০ টাকা চুরির ভিডিও ভাইরাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৬:৫৩ পিএম, ১৫ জুন ২০২১

যশোরের চৌগাছায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ সালামের টাকা চুরির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চৌগাছা বাজারের ‘ধনী প্লাজা’ মার্কেটের জাহিদ ইলেকট্রনিকস নামের একটি দোকানের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজে চুরির দৃশ্য ধরা পড়েছে।

সোমবার (১৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। যদিও জাহিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী মো. জাহিদের দাবি, ভাইরাল ভিডিওটি এক বছর আগের। তিনি এটি ফাঁস করেননি।

এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার (১৫ জুন) বিকেলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ সালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি মিথ্যা ও বানোয়াট। রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে তার ক্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এই ষড়যন্ত্রমূলক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ সালাম ওরফে সালাম ধনী তার পরিবারের মালিকাধীন ‘ধনী প্লাজা’ মার্কেটের জাহিদ ইলেকট্রনিকস নামের একটি দোকানের সামনে এসে দাঁড়িয়ে তার মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে দোকানের ক্যাশেবাক্সে থাকা কর্মচারীকে কিছু কিনে আনতে বলেন। কর্মচারী বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি কয়েকবার সিসিটিভির মনিটরের দিকে তাকিয়ে কিছু দেখেন। এরপরই সামনের টেবিলের ওপর থেকে নিচু হয়ে ক্যাশের ড্রয়ার থেকে কিছু তুলে নিয়ে প্রথমে বাম হাতে রাখেন। পরে সেটি শার্টের বুক পকেটে ঢোকান।’

চৌগাছা উপজেলা বিএনপি দুইভাগে বিভক্ত। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক-২ এমএ সালাম। তিনি চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক সহ-সভাপতি ও চৌগাছা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি এবং চৌগাছা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।

জাহিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি প্রায় এক বছর আগের। এই চুরির আগেও তিনি (এম এ সালাম) অনেকবার এভাবে টাকা নিয়েছেন। সেদিন তিনি ক্যাশ থেকে ২০০ টাকা নিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘তার (এমএ সালাম) মার্কেটেই দোকান ভাড়া নিয়ে আমি ব্যবসা করি। তাই কোনো বিচারের আশা করলে ব্যবসার জায়গাটা হারিয়ে ফেলতে পারি।’

জাহিদ আরও বলেন, ভিডিওটি ফাঁসের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। এ বিষয়ে তখন থানায়ও কোনো অভিযোগ করেননি। ভিডিওটি ফাঁস করলে তখনই করতে পারতেন বলে তার দাবি।

ওই মার্কেটের কয়েকজন বলেন, ভিডিওটি সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেয়া। বিষয়টি নিয়ে তখন এমএ সালামের বড় ভাই এম এ সামাদের নেতৃত্বে বিচার হয়েছিল। তখন ফুটেজ দেখার সময় কেউ হয়তো মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখেন। সেটিই সোমবার ভাইরাল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মিলন রহমান/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।