কর অফিসে গিয়ে জানলেন তার নামে ১৩ গাড়ি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:০০ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০২১

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের হাবিবপুর এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন। সাদিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে তার একটি মোটরপার্টস বিক্রির প্রতিষ্ঠান। এছাড়া তার দুটি গাড়ি থাকলেও সম্প্রতি বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ অফিস থেকে তাকে মোট ১৩টি গাড়ির কর দাখিলের কথা বলা হয়। এমন কথা শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান। নিজেই জানেন না তার নামে ১৩টি গাড়ি আছে। পরে বুঝতে পারেন তিনি প্রতারকের খপ্পরে পড়েন।

এ ঘটনায় শনিবার (২ অক্টোবর) সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, চার বছর আগে যশোর ও টাঙ্গাইল জেলার রেজিস্ট্রেশনে আমার দুটি মিনিবাস ছিল। সেগুলো বিক্রি করে দিয়েছি। বর্তমানে আমার কোনো গাড়ি নেই। কিন্তু আমাকে কর অফিসে ডেকে নিয়ে বলা হয় আমার ১৩টি গাড়ির কর প্রদানের জন্য। এ কথা শুনে আমি তো অবাক হয়ে যাই। আমি কীভাবে এত গাড়ির মালিক হয়ে গেলাম। আমার তো এত সামর্থ্য নেই। কিন্তু আমি চারটি ট্রাক, একটি ট্যাংক লরি, চারটি মিনি বাস ও চারটি প্রাইভেটকারের মালিক, যা নিজেও জানি না।

তিনি আরও বলেন, এটা কীভাবে সম্ভব। যাই হোক প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি রতন কান্তি ধরের শরণাপন্ন হয়েছি। তিনি আমাকে প্রথমে জিডি করার কথা বলেছেন। আমি জিডি করেছি। একই সঙ্গে প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেবো।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রতন কান্তি ধর বলেন, কামাল হোসেন আমার কাছে এসেছিলেন। আমার মনে হচ্ছে তিনি প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন। এখানে কারও যোগসাজশ থাকতে পারে। তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা উপ-কর কমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমাদের বলা হয়েছে টিআইএন’র বিপরীতে কোনো গাড়ি থাকলে সেগুলোকে নোটিশ করার জন্য। যার নামে গাড়ি ওই মালিক ধরে বিনিয়োগ হিসেবে তার কর নির্ধারণ করতে হবে। যার নামে নিবন্ধন আছে তাকেই প্রমাণ করতে হবে তিনি গাড়ির মালিক কি না। অবশ্যই তার টিআইএন নম্বর কাউকে দিয়েছেন বা কোনোভাবে সহযোগিতা করেছেন। এটার দায় তার ওপরই বর্তাবে। আমাদের কাজ হচ্ছে নোটিশ করা এবং সে অনুযায়ী তিনি ব্যাখ্যা দেবেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিআরটিএ সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী বলেন, আমাদের কাছে এমন অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। যদি অভিযোগ আসে তার সব কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। তার আগে কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না।

এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।