শিক্ষকরা বেতন পান না ৩২ মাস, বন্ধের উপক্রম বিহারিদের স্কুল

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৬:৫৩ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০২১

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী বিহারি কলোনিতে দুই হাজার পরিবারের বসবাস। তাদের সন্তানরা মাধ্যমিকের পড়ালেখা শেষ করে কলোনির আদমজী উম্মুল ক্বোরা হাইস্কুলে। তবে বেশিরভাগ পরিবার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল থাকায় চাইলেও অন্যান্য স্কুলে ভর্তি করাতে পারেন না তাদের সন্তানদের। স্কুলটিতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৯৯৫ জন।

সৌদি আরবের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক রিলিফ অর্গানাইজেশনের (আইআইআরও) অনুদানে চলতো স্কুলটির কার্যক্রম। অনুদানের টাকায় শিক্ষক ও কর্মচারীরা বেতন হতো। এমনকি সংস্থার কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা উপকরণসহ নানান সুযোগ-সুবিধা পেতো। কিন্তু গত ৩২ মাস (দুই বছর ৮ মাস) ধরে অনুদান বন্ধ রয়েছে। যে কারণে শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না প্রায় তিন বছর।

স্কুল সূত্রে জানা গেছে, ৩২ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রেখেই সংস্থার পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা আর কোনো অনুদান দিতে পারবেন না। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর স্কুলে চিঠিটি আসে। ফলে স্কুলের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষকরা। তবে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এভাবে চলতে থাকলে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা শিক্ষকদের। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক রিলিফ অর্গানাইজেশন নামের একটি সংস্থার অনুদানে ১৯৯৭ সালের ২৭ অক্টোবর স্কুলটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রথমদিকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল। পর্যায়ক্রমে তা দশম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। সংস্থাটির সহযোগিতা পাওয়ায় অসহায় পরিবারের সন্তানরাও স্কুলগামী হয়। প্রধান শিক্ষকসহ ১৪ জন শিক্ষক এবং একজন পিয়ন ও একজন দারোয়ানের বেতন দিয়ে আসছিল সংস্থাটি। কিন্তু ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বকেয়া হয়। এই বকেয়া রেখেই ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন চলমান রাখে সংস্থাটি। কিন্তু ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবার বেতন বকেয়া হয়।

Bihari-(3).jpg

স্কুলের প্রধানশিক্ষক হাকিম জয়নুল আবেদীন জাগো নিউজকে বলেন, সংস্থা থেকে আমাদের ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে বেতন দেয়া হতো। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান বাড়াতে আমরা খণ্ডকালীন আরও ৯ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। তাদের বেতন শিক্ষার্থীদের সামান্য বেতন থেকে পরিশোধ করা হয়। তবে সংস্থাটি অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় স্কুলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বেতন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেতন মাসে ২০০ টাকা। তবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী তা দিতে পারে না। এজন্য আমরাও তাদের চাপ দেই না। বেতন না দিলেও আমরা তাদের ক্লাস করতে দেই এবং পরীক্ষার সুযোগ দেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে স্কুলটি চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন হাকিম জয়নুল আবেদীন।

এ বিষয়ে সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এ বিষয়ে ডিসি স্যার ভালো বলতে পারবেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা যদি বিষয়টি আমাদের নজরে আনেন তাহলে আমরা ওয়ার্কপ্ল্যান করে দেখতে পারি।

এস কে শাওন/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।