অতিরিক্ত পণ্য বহন ঠেকাতে সিলেটের ৫ সড়কে বসছে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৫:১৭ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১

সিলেটে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি পাথর-বালুসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের সড়ক-মহাসড়কগুলো দেবে গিয়ে ও ভেঙে অল্পদিনের মধ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এসব ভাঙাচোরা সড়কের সংস্কারে ব্যয় হয় বিপুল অঙ্কের টাকা। এ অবস্থায় সিলেটের পাঁচটি সড়ক-মহাসড়কে প্রথমবারের মতো এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের কাজ শেষ হলে সড়ক-মহাসড়কে ট্রাক, লরি অথবা অন্য কোনো যানবাহন দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত পণ্য পরিবহন বন্ধ হবে। মাত্রাতিরিক্ত পণ্য পরিবহন করলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনকে গুনতে হবে জরিমানা।

সওজ সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক, সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়ক, বিমানবন্দর-বাদাঘাট সড়ক, শেওলা-সুতারকান্দি সড়ক এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বসানো হবে। এর মধ্যে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক বাদে বাকি চারটি সড়ক-মহাসড়কে এ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বসাতে ব্যয় হবে ৬৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে যে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বসানো হবে, সেটি মূলত ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে (দুটি সার্ভিস লেনসহ ছয় লেন) উন্নীতকরণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এ রুটে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপনে ১৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ হিসেবে পাঁচটি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপনে মোট ব্যয় হবে ৮০ কোটি টাকারও বেশি।

সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, বর্তমানে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের সিলেটের লামাকাজিতে ১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রথম এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান আছে।
সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বসানোর কাজও শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে শেওলা-সুতারকান্দি সড়কে ১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বসানো হবে। এছাড়া বিমানবন্দর-বাদাঘাট সড়কে এ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বসাতে ১৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে সিলেটের সড়ক-মহাসড়কে কোনো এক্সেল লোড বা অতিরিক্ত ধারণক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের কোনো কেন্দ্র নেই। এ কারণে যানবাহনে দ্বিগুণেরও বেশি পণ্য পরিবহন করা হয়। এতে সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বসানোর কাজ শেষ হলে সড়ক-মহাসড়কে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন বন্ধ হবে। কেউ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন করলে সেটা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে ধরা পড়বে। তখন সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কের মাত্রাতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সারাদেশে ২৮টি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। প্রায় আড়াই বছর আগে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির মেয়াদ আছে আগামী বছরের জুন অবধি। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৩০ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

তবে প্রকল্প গ্রহণের পর সঠিক সময়ে কাজ শুরু করতে পারেনি সওজ। জমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও করোনাভাইরাসের ধাক্কায় পিছিয়ে যায় প্রকল্প শুরুর কাজ। জুন মাসে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ প্রকল্পের জন্য ঠিকাদার ও পরামর্শদাতা নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন দেয়। এরপরই মূলত কাজে গতি সঞ্চার হয়।

ছামির মাহমুদ/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]