আদালতে আজ নীরব ছিলেন মামুনুল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:১৮ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় করা ধর্ষণ মামলায় দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন এজলাসে নীরব ছিলেন হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক। তিনি তেমন কোনো উচ্চবাচ্য করেননি। আদালতে আনা-নেওয়ার সময়ও ছিলেন স্বাভাবিক।

তবে আদালতপাড়ার বাইরে অবস্থান করছিলেন তার অনুসারীরা। আদালতের বারান্দায় তার এক অনুসারী স্লোগান দেন। এসময় মামুনুল হক কিছু বলার চেষ্টা করলেও পুলিশের তৎপরতার কারণে বলার সুযোগ পাননি। পাশাপাশি স্লোগানধারী ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এতথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা হয়। আদালতের প্রবেশ ফটকে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ ও চেক করে প্রবেশ করানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল বাড়ানো হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয় মামুনুল হককে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে সাক্ষগ্রহণ শুরু হয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজরদারি বাড়ানো হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালীন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আদালত ভবনে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

দুপর ২টা পর্যন্ত চলে সাক্ষ্যগ্রহণ। এসময়ে কিছু অনুসারী বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আদালত ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মানুনুল হককে নিয়ে যাওয়ার সময় আদালত ভবনের ভেতরেই একজন স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে সরিয়ে দেয়। একইসঙ্গে মামুনুল হকও কিছু বলতে চাইলে তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রাকিবুদ্দিন আহমেদ বলেন, আজ মামুনুলের বিরুদ্ধে রয়েল রিসোর্টের সুপারভাইজার আব্দুল আজিজ, রিসিপশন অফিসার নাজমুল ইসলাম অনিক ও আনসার গার্ড রতন বড়াল সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ জানুযারি দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে গত ২৪ নভেম্বর প্রথম দফায় মামুনুল হকের উপস্থিতিতে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার সাক্ষ্য নেন আদালত। তার আগে গত ৩ নভেম্বর মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলায় বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। পরে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।

পরে ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। তবে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন মামুনুল হক।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।