মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেন সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজের ৩৯ শিক্ষার্থী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৪:৩৭ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০২২

নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এ বছর ৩৯ জন শিক্ষার্থী দেশের সরকারি মেডিকেল (এমবিবিএস) কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে কলেজটির শিক্ষার্থীরা এ কৃতিত্ব অর্জন করেন।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম আহমেদ ফারুক জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতিবছরই এই কলেজে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করে দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান। এদিকে, শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফলে বেশ খুশি কলেজের শিক্ষকরা। তারা বলছেন, এই কলেজ থেকে প্রতিবছর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা শুধু মেডিকেল কলেজ নয় বুয়েটসহ নামকরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়ে প্রতিষ্ঠানের নাম উজ্জ্বল করছেন।

জানা গেছে, এ বছর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে ২৬৮ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৪৯ জন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। আর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ৩৯ জন। এর আগে ২০২১ সালে ৪০ জন ও ২০২০ সালে ৩৮ জন শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

বগুড়া মেডিকেলে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থী জিন্নাত রেহেনা ইমু বলেন, কলেজের শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় আজ আমরা এতদূরে আসতে পেরেছি। স্যারেরা আমাদের ভয়কে জয় করতে বলতেন। আমরা ভয়কে জয় করে আজ মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছি।

শাহরিয়ার রাসেল এ বছর ঢাকা মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা দেওয়ার পর মনে কিছুটা সংশয় থাকলেও রেজাল্ট বের হওয়ার পর নিজের রোল দেখতে পেয়ে নিজেকে সবচেয়ে ভাগ্যবান মনে হয়েছিল।

jagonews24

দিনাজপুর মেডিকেলে চান্স পাওয়া মিনহাজুল ইসলাম বলেন, আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল আমি ডাক্তার হবো। আজ মায়ের মনের আশা পূরণ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিবছরই এখানকার শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করে। শুধু মেডিকেল না বুয়েট, রুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায়।

ছাত্রছাত্রীদের এমন ফলাফলে গর্ববোধ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, যখন কোনো শিক্ষার্থী মেডিকেল বা বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পায় তখন মনে হয় নিজের সন্তানই ভালো রেজাল্ট করেছে। অনেক সময় ভালো কোনো স্টুডেন্ট মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে তার চেয়ে কিছুটা দুর্বল শিক্ষার্থী সুযোগ পায় তখন তাদের রেজাল্ট শুনে আরও বেশি ভালো লাগে।

কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. এরশাদ মণ্ডল ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব দিয়ে বলেন, এখানে ভালো শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পায়। তাছাড়া শিক্ষকরা পাঠদানে আন্তরিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা দেওয়া হয় তাদেরকে। ‘ভালো কিছু করা আর তোমরাই ভালো করতে পারবে’ এই অনুপ্রেরণা দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। ফলে তারা মানসিকভাবে ভালো করার প্রস্তুতি নেয়।

তিনি আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটিতে ঐতিহ্যগতভাবে ভালো শিক্ষা দেওয়া হয়। এই কলেজের শিক্ষার্থীরা দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পায়। তারা আবার কলেজে এসে ছোট ভাই-বোনদের নানাভাবে সহযোগিতা করে অনুপ্রাণিত করে। মোটকথা শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর সেতুবন্ধনের কারণে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করে থাকে।

সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম আহম্মেদ ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, এই কলেজের শিক্ষার্থীরা সবাই মেধাবী। তারা শুধু মেডিকেল কলেজে নয় বুয়েট, রুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে।

এ বছর ৩৯ জন শিক্ষার্থী মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছে জানিয়ে বলেন, ডেন্টাল ও ওয়েটিংসহ ধরলে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী হবে। এখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তরিকভাবে তাদের পাঠদানে মনোনিবেশ করায় প্রতিবছরই ভালো ফল হয়ে থাকে।

এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।