ভরা মৌসুমে ব্যস্ততা নেই রাজবাড়ীর কামারপট্টিতে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০২:৪৪ পিএম, ০৬ জুলাই ২০২২

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশু জবাইয়ের জন্য ঈদের আগেই চাপাতি, ছুরিসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করা হয়। যার ফলে চাপাতি, ছুরি তৈরির ব্যস্ততা বাড়ে কামারপট্টিতে। কিন্তু এবার ঈদের আগে সেই কর্মব্যস্ততা নেই রাজবাড়ীর কামারপট্টিতে। ভরা মৌসুমে ব্যবসা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন কারিগররা।

ঈদের প্রায় ২ সপ্তাহ আগে থেকেই চাপাতি, ছুরি, দাসহ অন্যান্য বস্তু তৈরিতে ব্যস্ততা বাড়ে কামারদের। খাওয়ার সময়ও থাকে না। কিন্তু কাজের চাপ না থাকায় এবার স্বাভাবিক সময়ের মতোই ধীর গতিতে কাজ করছেন।

রাজবাড়ী শহরে প্রায় ২০টিসহ জেলায় বহু কামারের দোকান রয়েছে। যার প্রতিটির অবস্থা একই রকম। আগে ঈদ মৌসুমে প্রতিটি দোকানে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হলেও এবার তা উল্টো।

এদিকে নতুন চাপাতি, ছুরি, দা, ছোরা ৫শ টাকা কেজিতে তৈরি করা হচ্ছে। আর পুরাতন জিনিস গুলো বিভিন্ন দরে শান দেওয়াসহ মেরামত করা হচ্ছে।

ক্রেতা আনোয়ার হোসেন ও মন্টু মিয়া বলেন, এবার কামারপট্টিতে ভিড় নেই। সহজেই তাদের অর্ডার করা চাপাতি বানিয়েছেন। কাজের চাপ না থাকায় কামাররা ধীরেসুস্থে কাজ করছেন। বানানোর পর ওজন অনুযায়ী ৫শ টাকা কেজি নিচ্ছেন কামাররা।

মাসুদ কর্মকার, সুশীল কর্মকার ও অমল কর্মকার বলেন, এবছর কোরবানির পশু জবাইয়ের পাতি, ছুরি তৈরির লোকজন তেমন আসছে না। ৩০-৪০ বছরে ধরে তারা কামারের কাজ করে আসছেন। কিন্তু এমন খারাপ অবস্থা কখনও হয়নি। গতবছর করোনার মধ্যেও এবারের থেকে বেশি কাজ হয়েছে। এভাবে কাজ হলে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে।

দেশ স্বাধীনের পর থেকে কামারের কাজ করা সম্ভু কর্মকার বলেন, এবার হালকা পাতলা কাজ আছে, ভারি কোনো কাজ নেই। বড় কোনো অর্ডারও পাননি। এমন অবস্থা এর আগে হয়নি।

রুবেলুর রহমান/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।