লোডশেডিং
চার্জার ফ্যানে ১০০০, লাইটে বেড়েছে ৩০০ টাকা
চলতি ভরা বর্ষাতেও চলছে তীব্র খরা। গরমে অতিষ্ঠ নারায়ণগঞ্জবাসী। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং। এ অবস্থায় বিক্রি বেড়েছে চার্জার ফ্যান ও লাইটের। এ সুযোগে দামও বেড়ে গেছে এসব ইলেকট্রনিকস পণ্যের। ফ্যানপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা এবং লাইটে প্রায় ৩০০ টাকা করে বেড়ে গেছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের ইলেকট্রনিকস পণ্যের অন্যতম বড় মার্কেট ডিআইটিসহ বিভিন্ন এলাকার চার্জার ফ্যান ও লাইটের দোকানগুলোতে ঘুরে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।
দোকানগুলোতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে বেশিরভাগই খোঁজ করছেন চার্জার ফ্যানের। তবে দাম বেশি। ক্রেতারা দাম বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাচ্ছেন। উত্তরে বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে গেছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে ১৯ জুলাই থেকে সারাদেশে শিডিউল অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নারায়ণগঞ্জেও শিডিউল অনুযায়ী লোডশেডিং শুরু হয়েছে।
ডিআইটি এলাকার আপন ইলেকট্রনিকসের ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, নন ব্র্যান্ডের প্রতি ফ্যানে ৮০০ টাকা করে দাম বেড়েছে। আগে যেসব ফ্যান ২৮০০-৩০০০ টাকায় বিক্রি হতো সেগুলো এখন ৩৬০০-৩৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্র্যান্ডের প্রতি ফ্যানে কমপক্ষে ৫০০ টাকা করে দাম বেড়েছে। পাশাপাশি ২০০ টাকা করে বেড়েছে চার্জার লাইটের দাম।

তিনি বলেন, ‘দাম বৃদ্ধির তুলনায় আমাদের ক্রেতার সংখ্যা তেমন বাড়েনি। ক্রেতার মাঝে তেমন সারা পাচ্ছি না। মাঝে মধ্যে ক্রেতা এলেও দাম শুনে তারা চলে যাচ্ছেন। ক্রেতারা মনে করছেন আমরা দাম বাড়িয়েছি। কিন্তু এখানে আমাদের কিছু করার নেই। পাইকারি বাজারে দাম বাড়িয়েছে। সে কারণে আমাদেরও দাম বাড়াতে হচ্ছে।’
সনি ইলেকট্রনিকস প্লাসের ম্যানেজার আসাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘যে চার্জার ফ্যান আগে ২৪০০ টাকায় কিনে আনতাম সেই ফ্যান এখন দাম বেড়ে গিয়ে ৩৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। একইভাবে চার্জার লাইটেও ২০০-৩০০ টাকা করে দাম বেড়েছে। এখানে আমাদের দাম বৃদ্ধি অথবা কমানোর কোনো ক্ষমতা নেই।’

‘দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায় আমাদের পুঁজি বাড়াতে হয়েছে। কিন্তু আমাদের লাভ বাড়েনি বরং আগের তুলনায় লাভ আরও কমেছে। তবে লোডশেডিংয়ের কারণে কয়েকদিন ধরে ক্রেতা কিছুটা বেড়েছে। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাচ্ছেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য’, বলেন রমু ইরেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী মো. রমিজ উদ্দিন রমু।
হক ইলেকট্রনিকসের ম্যানেজার স্বপন বলেন, ‘ডলারের দাম বেড়ে গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরাও আগের চেয়ে বেশি ডলার দিয়ে পণ্য কিনছেন। যে কারণে প্রতি ইলেকট্রনিকস পণ্যে কমপক্ষে ১ হাজার করে দাম বেড়ে গেছে।’

ফ্যান কিনতে এসেছেন শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন এমনিতেই যে গরম, তার ওপর আবার লোডশেডিং। এ অবস্থায় টিকে থাকাটাই অনেক কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ফ্যান কিনতে এসেছি। কিন্তু দাম তো অনেক চাচ্ছে। সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না কী করবো।’
শাহ আলম নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘ঈদের আগে থেকেই ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যেতো। মনে করেছিলাম ঈদের পর হয়তো সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। কিন্তু এখন তো দেখছি দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না। সামনে কোন পরিস্থিতির শিকার হতে হবে জানি না। তাই আগে থেকেই কিনে নিচ্ছি।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা দাম বৃদ্ধির কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমত আরা জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসআর/জেআইএম