পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে চাচাকে নির্যাতন
নিজের ভাতিজার নির্মম নির্যাতনে আয়েজ উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তি পঙ্গু হতে বসেছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ভাতিজা লিটন মিয়া ও তার সহযোগিরা আয়েজ উদ্দিনের দুই পায়ের তলায় হাতুড়ি দিয়ে পেরেক ঢুকিয়ে দেয়া ছাড়াও পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দিয়েছে।
চিকিৎসকরা পায়ের তলা থেকে পেরেক বের করলেও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করায় তার পায়ের হাড় অসংখ্য জায়গায় ভেঙে গেছে বলে জানান। এক সপ্তাহ যাবৎ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অর্থপেডিক বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই বৃদ্ধ।
জানালেন সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চর ভানুডাঙ্গা গ্রামে তার বাড়ি। জমি নিয়ে তার ভাই দেলবর হোসেনে সঙ্গে বিরোধ চলছিল। আর এরই জের ধরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে তার আপন ভাতিজা লিটন মিয়া ও তার সহযোগিরা একই গ্রামের নাদু মিয়ার বাড়িতে তাকে আটক করে রাখে। এরপর তার হাত-পা বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে পায়ের গোড়ালির দিকে তালুতে পেরেক ঢুকিয়ে দেয়। এছাড়াও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেয়। পরে গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক পা থেকে দুইটি পেরেক বের করে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অর্থপেডিক বিভাগে ডা. নরেশ রায়ের তত্বাবধানে আয়েজ উদ্দিন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি জানান, আয়েজ উদ্দিনের দুই পায়ে গুরুতর জখম ছাড়াও কয়েক স্থানে হাড় ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় আয়েজ উদ্দিনের জামাই আনিছুর রহমান বাদী হয়ে লিটন মিয়াকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে কাজিপুর থানায় মামলা করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজিপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন জানান, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত লিটন মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এআরএ/আরআইপি