সময় শেষ হলেও বাকি সেতুর অর্ধেক কাজ, বর্ষায় ভোগান্তি

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৫:২০ পিএম, ১১ জুলাই ২০২৩

কাজের মেয়াদ শেষ হলেও যশোরের শার্শার নাভারণ থেকে গোড়পাড়া সড়কের দুটি স্থানে বেতনা নদীর ওপর দুটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে যথাক্রমে ৬০ ও ৪০ শতাংশ। কাজে ধীরগতির কারণে সেতু দুটি এখন এ অঞ্চলের মানুষের কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতু দুটির কাজ শেষ হলে হাজারো মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। তাই দ্রুত কাজ শেষ করে সেতু দুটি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, শার্শার নাভারণ-গোড়পাড়া সড়কের বেতনা নদীর ওপর কাজিরবেড় ও গাতিপাড়ায় দুটি ৬০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণকাজ পায় যশোরের আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ সেতু দুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: হেলেদুলে চলছে লোহালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ

Bridge

২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ এর ৩ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার সময় বেঁধে দিয়েছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। কাজ শুরু করে এ পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সেতু দুটির একটির ৬০ এবং অপরটির ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। কাজের ধীরগতিতে যাতায়াত ও এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছে এলাকাবাসী।

এছাড়া সেতু দুটির পাশে কাঠের তৈরি অস্থায়ী সেতু দিয়ে চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। গত কয়েক দিনে উন্মুক্ত এ কাঠের সেতু পারাপারের সময় ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল নিচে পড়ে একই পরিবারের তিনজনসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে নাসরিন খাতুন (৩৫) নামে এক নারী আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আহত নাসরিনের নিকটাত্মীয় বলিদাদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ দুটি সেতুর কাজ নিয়ে ব্যাপক টালবাহানা শুরু করেছে। কাজ শেষ করার ব্যাপারে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। বর্ষা মৌসুমে চলাচলকারীদের ভোগান্তি নিরসনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো কাজ হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: কবে শেষ হবে কাওনা বেইলি সেতুর নির্মাণকাজ

স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক জামিরুল ইসলাম বলেন, কাঠের উন্মুক্ত সেতু দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই যানবাহন থেকে যাত্রী নিয়ে নিচে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হচ্ছেন। নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।

Bridge

গাতিপাড়া গ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান সর্দার বলেন, সেতু নির্মাণে যে পরিমাণ ধীরগতি দেখছি তাতে কবে এই সেতুর কাজ শেষ হবে বলা মুশকিল। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএলের ম্যানেজার সুখেশ মজুমদার বলেন, আমরা এরইমধ্যে গাতিপাড়া খেয়াঘাট সেতুর কাজ ৬০ শতাংশ এবং কাজিরবেড় সেতুর ৪০ শতাংশ কাজ শেষ করেছি। বাকি কাজ শেষ করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে।

Bridge

এ বিষয়ে এলজিইডির শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী এম এম মামুন হাসান বলেন, প্রতিনিয়ত কাঠের সেতু থেকে পড়ে গিয়ে মানুষের যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। পাশের কাঠের সেতুটি চলাচল উপযোগী করার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মই বেয়ে উঠতে হয় সেতুতে

তিনি বলেন, কাজ শুরুর দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও বিভিন্ন জটিলতায় দুটি সেতুর একটির কাজ ৬০ ও অপরটির ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।

Bridge

যশোর এলজিইডির ফিল্ড রেসিডেন্স ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম বলেন, সেতু দুটির কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। আশা করি সেতু দুটির কাজ দ্রুত শেষ হবে।

মো. জামাল হোসেন/এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।