পাবনায় ৫ দিনব্যাপি সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র উৎসব শেষ


প্রকাশিত: ০২:৫২ এএম, ১১ এপ্রিল ২০১৬

পাবনায় পাঁচ দিনব্যাপি সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র উৎসব রোববার রাতে শেষ হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে সেমিনার, আলোচনা সভা, মহানায়িকার বিখ্যাত গান পরিবেশন এবং তাঁর অভিনীত বিখ্যাত ছবি প্রদর্শন করা হয়। সমাপনীতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে উপচেপড়া ভিড় ছিল।

শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পৌর মুক্তমঞ্চে উৎসব শুরু হয় ৬ এপ্রিল থেকে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পাবনা জেলা প্রশাসন ও সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ এর আয়োজন করে।

রোববার সমাপনী দিনে রাত সাড়ে ৭ টায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক। সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ সভাপতি ও পাবনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এম সাইদুল হক চুন্নুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, পাবনা ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বেবী ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, প্রেস ক্লাবের সাবেক সম্পাদক আহমেদুল হক রানা, দৈনিক নতুন বিশ্ববার্তার সম্পাদক শহিদুর রহমান।

পরে সুচিত্রা সেন অভিনীত বিখ্যাত চলচ্চিত্র সাগরিকা প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া মহানায়িকার চলচ্চিত্রের গান পরিবেশন করেন শিল্পী চাঁদনী, তনুশ্রী, তুলতুলসহ অন্যরা।

এর আগে ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র-প্রেক্ষাপট, প্রত্যাশা এবং করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ বকুল। সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ সাধারণ সম্পাদক ডা. রাম দুলাল ভৌমিক এর সঞ্চালনায় এবং পাবনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম বেনজামিন রিয়াজীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মারজিয়া রহমান।

সমাপনীতেও বক্তারা মহানায়িকার বাড়িটি একটি আর্কাইভ বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার দাবি জানিয়ে বলেন, সুচিত্রা সেন চিরদিন তাঁর কীর্তির জন্য লক্ষ কোটি ভক্ত অনুরাগীর হৃদয়ে জীবিত থাকবেন। তিনি শুধু পাবনার নয়, তিনি বাঙালি এবং বাংলাদেশের সম্পদ। কাজেই জাতীয়ভাবেও তাকে মূল্যায়ন করা জরুরি।

উপমহাদেশের বাংলা চলচ্চিত্রের কালজয়ী নায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক বাড়ি পাবনা শহরের গোপালপুর হেমসাগর লেনে। তিনি এখানকার মহাকালি পাঠশালায় এবং পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। এরপর পরিবারের সঙ্গে ভারত চলে গেলে বাড়িটি প্রথমে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং পরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেয়া হয়। অনেক আন্দোলনের পর এবং আইনী লড়াই শেষে গত বছর বাড়িটি দখলমুক্ত হলে আবারও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ফিরে যায়।

সুচিত্রা সেনের স্মৃতিকে ধরে রাখতে এবং তাকে স্মরণ করতে ২০০৪ সাল থেকে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ প্রতি বছর সুচিত্রা সেনের নামে চলচ্চিত্র উৎসব করে আসছে। প্রসঙ্গত, উপমহাদেশের বাংলা চলচ্চিত্রের কালজয়ী নায়িকা সুচিত্রা সেন ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনা শহরের হেমসাগর লেনের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ভারতে পরলোকগমন করেন।

একে জামান/এসএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।