চিকিৎসকদের ধর্মঘটে রোগী শূন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল


প্রকাশিত: ০৯:৪১ এএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৬

মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের ডাকা দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে শনিবার রোগী শূন্য হয়ে পড়েছে হাসপাতালটি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দূরদূরান্ত থেকে আসা বিভিন্ন রোগীরা। এমন অবস্থায় গরীব অসহায় রোগীরা বাধ্য হচ্ছেন অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নিতে।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে মাদারীপুর শহরের কলেজ রোড এলাকার লাল মিয়া শিকদারের স্ত্রী রেনু বেগমকে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাইনুল ইসলাম রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দেন। এরপর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে বার বার চিকিৎসককে ডাকলেও চিকিৎসক আসেনি বলে অভিযোগ করেন ওই রোগীর স্বজনরা।

শুক্রবার ভোরে ওই রোগীর মৃত্যু হলে হাসপাতালের চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে এ ঘটনার জের ধরে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা। ফলে শনিবার দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে রোগী শুন্য হয়ে পড়েছে হাসপাতাল।

Madaripur

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি মাইনুল নামে এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তবে রোগীর ছেলে ধীরাজ দাবি করেন চিকিৎসকের অবহেলায় তার মা মারা গেছেন। তাই তাদের অবহেলার দায় এড়াতে তারা এইসব ধর্মঘট করছেন।

শনিবার সরেজমিনে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ও মেডিসিন ওয়ার্ডে কোনো রোগী নেই। লেবার ওয়ার্ডের অধিকাংশ রোগীরাও চলে গেছে। কয়েকজন রোগী থাকলেও তাদের কোনো রকম চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সোহাগ নামে এক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসলেও তাকে সেবা না দিয়ে ক্লিনিকে চলে যেতে বলেছে হাসপাতালের লোকজন।

এদিকে, শনিবার সকাল ১১টায় দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে চিকিৎসকরা। তবে মানববন্ধন শেষ করে সাড়ে ১১টার দিকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক আবু সফর, একরাম, বাসেত, রিফাতসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দিতে দেখা গেছে।

ঝর্না নামে এক রোগীর স্বামী আজিজ বলেন, গতকাল থেকে ডাক্তার আসে না। পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ করে রাখে। হাসপাতালের খাবার সরবারহও বন্ধ। আমরা গরীব মানুষ কোথায় যাবো।

সোবাহান নামে অপর এক রোগীর স্বজন বলেন, দোষ করে থাকলে হয়ত একজন করেছে তাই বলে পুরো হাসপাতাল বন্ধ করে দেবে। সব রোগী তো আর দোষ করেনি।

মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার মন্ডল বলেন, দোষীদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। তবে রোগীদের ভোগান্তি প্রসঙ্গে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

নাসিরুল হক/এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।