টাকা নিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার : বিএনপির ৮ প্রার্থীকে শোকজ


প্রকাশিত: ০৯:৩৪ এএম, ১৩ মে ২০১৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বিএনপির ৮ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে আবদুল মান্নান সরকার, চরমোহনা ইউনিয়নে নাজমুল ইসলাম মিঠু, চরপাতা ইউনিয়নে হিজবুল্লাহ গুনু, কেরোয়া ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম সরকার, বামনী ইউনিয়নে সালেহ আহম্মদ, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে হারুনুর রশিদ হাওলাদার, দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নে আলমগীর মাঝি ও রায়পুর ইউনিয়নে মো. ইউছুফকে নোটিশ করা হয়েছে।

এরমধ্যে নাজমুল ইসলাম মিঠু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মো. ইউছুফ সহ-সভাপতি, অন্যরা উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার চরপাতা, কেরোয়া ও বামনীসহ কয়েকটি ইউনিয়নে টাকার বিনিময়ে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে গেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে কেরোয়ার নজরুল ইসলাম সরকার আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহজাহান কামালের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন।

সম্প্রতি কেরোয়ার লুধুয়া গ্রামে এক অনুষ্ঠানে টাকা নিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ সিনিয়র নেতাদের কাছে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নালিশ করেন শাহজাহান কামাল। এসময় নজরুল ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে, নজরুল ইসলাম সরকারের দাবি, তিনি এমনিতেই নির্বাচন থেকে সরে গেছেন, টাকা নিয়ে নয়।

চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, নিশ্চিত বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোটে জয়ী হতো। দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়হীনতার কারণে এ দূর্দশা। প্রার্থীদের কেউ কেউ টাকা নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছে বলে শুনছি। লজ্জায় এখন আর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও করি না।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, নির্বাচনে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ২টিতে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। অন্যরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বলে জনশ্রতি রয়েছে, এ জন্য দলের পক্ষ থেকে তাদেরকে (প্রার্থী) শোকজ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১০টি ইউনিয়নে তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে ৭টিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ ৯টিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয়ী হন। একটির আশিংক ভোটের ফলাফল ঘোষণাও হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন।

কাজল কায়েস/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।