অস্তিত্ব সঙ্কটে সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খাল


প্রকাশিত: ০৫:৫৪ এএম, ১৪ মে ২০১৬

জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের খরস্রোতা প্রাণসায়ের খাল এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে বিলীনপ্রায়। মূলত অপরিকল্পিত সুইচ গেট নির্মাণ, দুই তীর দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতি স্থাপনাই খালটিকে এ বিপন্নের পথে ঠেলে দিয়েছে।

তাছাড়া খালের মধ্যে আবর্জনা ফেলায় দূষিত হচ্ছে পরিবশে। বৃষ্টির দিনে এই খালটিই যেখানে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র অবলম্বন সেখানে এ মৌসুমে অভিশাপে রূপ নিয়েছে খালটি।

Shatkhira-khal

জানা গেছে, ১৮৬৫ সালে অবিভক্ত বাংলার জমিদার প্রাণনাথ রায় চৌধুরী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে ও ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধার্থে প্রাণ সায়ের খাল খনন করেন। ২০০ ফুটেরও বেশি চওড়া করে খেজুরডাঙ্গি-সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে এল্লারচর পর্যন্ত খালের দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। একসময় বড় বড় ব্যবসায়িক নৌকা ঢুকত এ খাল দিয়ে। ফলে সাতক্ষীরা ব্যাবসা বাণিজ্যের দিক থেকে অনেক প্রসার লাভ করে সেসময়।
 
কিন্তু ১৯৮৩ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড খালের দুই প্রান্তে সুইচ গেট নির্মাণ করে খালের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে দিলে ধীরে ধীরে খালটি তার প্রাণচাঞ্চল্যতা হারিয়ে ফেলে। যা এখন বন্ধ খালে পরিণত হয়েছে।

Shatkhira-khal

শহরের মহসিন আলম নামে এক ব্যক্তি জাগো নিউজের এ প্রতিবেদককে জানান, শহরবাসীর যত ময়লা-আবর্জনা সব ফেলে এই খালের মধ্যে। এতে খালটি একদিকে যেমন বন্ধ হচ্ছে অন্যদিকে দুর্গন্ধে এর পাশ দিয়ে যাওয়া যায় না। খালটি রক্ষার্থে প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আব্দুল সাদী জাগো নিউজকে বলেন, খালের মধ্যে কেউ নেটপাটা দিলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবেই ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়।

Shatkhira-khal

তাছাড়া খালের আশেপাশে নতুন কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং ইতোমধ্যে যারা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা প্রস্তুতির কাজ শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।