অর্থনৈতিক সংস্কার করলে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ অতিক্রম করবে : সিপিডি
সরকার আগামী অর্থবছরে নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে কিছু অর্থনৈতিক সংস্কার করলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি খুব সহজেই বৃদ্ধি পেয়ে ৬ শতাংশ অতিক্রম করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি : ২০১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন। এতে বলা হয়, নিম্ন মূল্যস্ফীতি, সুদের হার হ্রাস, মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিশ্বব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য হ্রাসের সুবিধা নিয়ে আগামী অর্থবছরে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার করতে হবে।
এ সময় সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিপিডি বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মসূচির একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনার আলোকে এই প্রতিবেদন তৈরি করে। সিপিডি পরিসংখ্যানগত, কৃষি পণ্যের মূল্য, স্থানীয় সরকারে অর্থায়ন, সরকারি ব্যায় পর্যালোচনা এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের জন্য পাঁচটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া সিপিডি সরকারি চাকরি বিধি, পিপিপি বিধি, বেসরকারিকরণ, ফিনান্সিয়াল রিপোটিং এ্যাক্ট এবং অন্যান্য বিষয়ে সংস্কার করারও সুপারিশ করেছে।
চিরাচরিত নিয়মে করপ্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে কর দাতাদের জীবনে শুধু মাত্র ভোগান্তি বাড়াবে বলে মনে করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
ড. দেবপ্রিয় উত্তরাধিকার সূত্রে কর আরোপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, যে ব্যক্তি কোন কাজ করেন না, সে ব্যক্তি কর না দিয়ে কোন সম্পত্তির অংশীদার হতে পারবে না।
সিপিডি’র ফেলো কালো টাকার বিষয়ে নতুন আইন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোন আইন থাকে, তবে কালো টাকা সাদা করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, দেশ এখনো কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জন থেকে অনেক দূরে রয়েছে। তিনি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারকে পরামর্শ দেন।
এসকেডি/আরআই