খেলার ছলে শব্দ শেখা

মুরাদ হুসাইন
মুরাদ হুসাইন মুরাদ হুসাইন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৮ পিএম, ২০ মে ২০১৯

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব শিশুকে প্রতিদিন একটি করে বাংলা অথবা ইংরেজি শব্দ শেখানো হচ্ছে। খেলার ছলে, আনন্দ পাঠের মাধ্যমে কীভাবে দৈনিক নতুন শব্দগুলো শেখা ও মনে রাখা যায় তা নিয়ে নানা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন ঢাকার কুর্মিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর আয়োজিত ‘উদ্ভাবনী মেলা ও শোকেসিং-২০১৯’ প্রতিযোগিতায় কুর্মিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। সোমবার দিনব্যাপী রাজধানী মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) মেলার উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

মেলায় মোট ১৬টি স্টলে ১৬টি উদ্ভাবন নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকরা বায়োস্কোপসহ নানারকম আকর্ষণীয় জিনিস প্রদর্শন করেন। কুর্মিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডিপিই’র নির্দেশনায় আমরা প্রতিদিন ছাত্র-ছাত্রীদের একটি বাংলা অথবা ইংরেজি শব্দ শেখাচ্ছি। খেলা আর আনন্দ পাঠের মাধ্যমে কিভাবে শব্দ শেখানো যায় সেটি নিয়ে আমরা বেশকিছু পদ্ধতি আবিষ্কার করি।’

তিনি বলেন, ‘লুডুর ছক্কার মাধ্যমে ছবি ও শব্দের খেলার মাধ্যমে আমরা শব্দ শেখানো কাজটি করি। শব্দ দিয়েও ছক্কা বানিয়ে তার মধ্যে শব্দগুলো জুড়ে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীরা তা নিয়ে খেলতে খেলতে শব্দ শিখবে। যেসব শব্দ শিখেছে তা যেন ভুলে না যায় তার জন্য বায়োস্কোপ বানিয়ে তার মধ্যে শেখানো শব্দগুলো কাগজে লিখে রাখা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বায়োস্কোপের ছিদ্র দিয়ে যে শব্দটি দেখা যাবে তা সুরের তালে তালে শিক্ষার্থীদের বলতে হবে। প্রমিত উচ্চারণে যারা রিডিং পড়তে পারছে ও যারা পারছে না তাদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করা হয়। যারা পারছে না তাদের নতুন করে খেলার ছলে পড়ানো হয়।’

primary2.jpg

এ স্কুলের শিক্ষকরা জানান, শব্দ শিখতে আমরা বিভিন্ন ধরনের খেলার আয়োজন করে থাকি। তার মাধ্যমে শেখানো শব্দগুলো পুনরায় মূল্যায়নসহ খেলার সঙ্গে পঠন-পাঠন করা হয়। যেসব শব্দ শেখানো হচ্ছে তা ক্লাসে ও বাহিরে আকর্ষণীয় করে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যদি কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে সেক্ষেত্রে পরদিন এসে শব্দের সঙ্গে পরিচিতি লাভ করতে পারে।

পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে ক্লাসে শেখানো শব্দগুলো মনে থাকছে কিনা তা মূল্যায়ন করা হয়। যারা মনে রাখতে পারছে তাদের একটি স্মাইল কার্ড দেয়া হয়। আর যারা ব্যর্থ হচ্ছে তাদের নতুন করে সেসব শব্দ শেখানো হয়। এ পদ্ধতি সারা দেশে অনুসরণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা।

অন্যদিকে ৭নং স্টলে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আত্মমূল্যায়ন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। শিক্ষক ক্লাসে পাঠদান শেষে শিক্ষার্থীদের কিছু প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে মূল্যায়ন করেন।

এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ক্লাসে শিক্ষকের পাঠ থেকে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা কী শিখলো তা নিজ হাতে লিখে দিতে হবে। এ শিখনফল তার বাস্তবজীবনে কীভাবে প্রয়োগ করবে তাও ছকে লিপিদ্ধ করবে।’

প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘এমন পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আগেই জানতে পারে এ পাঠ থেকে তাকে কী শিখতে হবে। পাঠ চলাকালীন শিক্ষার্থীরা পাঠের মধ্যে শিখনফল খুঁজতে থাকে ও মনোযোগী হয়ে উঠে, শিক্ষার্থী নিজেই নিজের মূল্যায়ন করতে শিখছে। এ পদ্ধতি দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু করতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে বলে মনে করেন এ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।’

edu-01.jpg

জানা গেছে, ‘উদ্ভাবনী মেলা ও শোকেসিং-২০১৯’ মোট ১১৫টি আইডিয়ার মধ্যে ১৫টি আইডিয়া বাস্তবায়নে তা পরিদর্শন কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। ১৫টি সেরা উদ্ভাবনী আইডিয়া ও সফল উদ্ভাবকরা হলো- উদ্ভাবনী উদ্যোগ, ক্লাসরুম লাইব্রেরি, দৃষ্টি সংযত ও মনোযোগ, মোবাইল মাসী (বিদ্যালয় বন্ধু), শিশুদের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা প্রদান ও সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তথ্য আদান-প্রদানে অনলাইন সার্ভিস, থিম বেইজ ক্লাসরুম (বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস), তৈরি ও তার ব্যবহার, উপজেলা শিক্ষক তথ্য ভাণ্ডার, অনলাইনে বিদ্যালয়ে মেরামত কাজ পরিদর্শন ও জিপিএফ অনুমোদন এবং মাঠ পর্যায়ে সংবাদ প্রেরণ স্থাপন, শিশুর আন্ত মূল্যায়ন, খেলার ছলে গণিত শেখা, লেখাপড়ার পাশাপাশি জীবন দক্ষতা অর্জন ইত্যাদি।

দ্বিতীয়বারের মধ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় সেরা উদ্ভাবককে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে। এ ছাড়াও অংশগ্রহণ করা শিক্ষকদের সনদ দেয়া হবে বলে আয়োজন প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়।

এমএইচএম/এমআরএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :