চট্টগ্রামে জিপিএ-৫ পেয়েও প্রথম ধাপে কলেজ পায়নি ৫০১ শিক্ষার্থী
এসএসসিতে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েও একাদশে ভর্তির প্রথম পর্যায়ের ফলাফলে কলেজ জুটেনি চট্টগ্রামের ৫০১ জন শিক্ষার্থীর। আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় সাব–কমিটি সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সাব–কমিটি সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে এবার ২৮২টি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন রয়েছে। অনুমোদিত এসব কলেজে আসন সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৩৯টি। মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় একাদশে ভর্তির প্রথম পর্যায়ের প্রকাশিত হয়। ফলাফলে সবমিলিয়ে প্রথম তালিকায় ৮ হাজার ৭০১ জন শিক্ষার্থী কলেজ ভর্তির জন্য স্থান পাননি। প্রথম তালিকায় কলেজ না পাওয়া এসব শিক্ষার্থী দ্বিতীয় পর্যায়েল ফল প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় পর্যায়ের ফল প্রকাশ করবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় পুনরায় আবেদন করতে হবে প্রথম তালিকায় স্থান না পাওয়া এসব শিক্ষার্থীদের।
সাব-কমিটি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীন কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য চট্টগ্রামের ১ লাখ ২৩ হাজার ১৫১ জন শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদন করছিল। এর মধ্যে প্রথম তালিকায় নির্বাচিত হয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৫০ জন। হিসেবে আরও ৮ হাজার ৭০১ শিক্ষার্থী আবেদন করেও প্রথম তালিকায় কলেজ পায়নি। অন্যদিকে, চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পাওয়া ১১ হাজার ৬১২ জনের মধ্যে একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করে ১১ হাজার ৫৭৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে প্রথম তালিকায় স্থান পেয়েছে ১১ হাজার ৭২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েও প্রথম ধাপে কলেজ পায়নি ৫০১ জন।
প্রথম তালিকায় ভর্তির জন্য নির্বাচিত হওয়া শিক্ষার্থীদের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৩৫ টাকা ফি পরিশোধ করে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন সম্পন্ন না করলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর মনোনয়ন ও আবেদন দুটোই বাতিল বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৫০ টাকা ফি দিয়ে তাদের পুনরায় নতুন করে আবেদন করতে হবে। আর প্রাথমিক নিশ্চায়ন সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনে দেওয়া পছন্দক্রমের উপরের দিকের কলেজে অটো মাইগ্রেশনের সুযোগ পাবে। মাইগ্রেশনের জন্য আলাদা আবেদনের প্রয়োজন নেই। তবে প্রথম তালিকায় স্থান না পাওয়া শিক্ষার্থীদের ২য় দফায় আবেদনকালে তাদের আর আবেদন ফি দিতে হবে না। দ্বিতীয় দফায় আবেদনের ক্ষেত্রে কলেজের পছন্দক্রম পরিবর্তন, নতুন কলেজ যুক্তকরণ বা কোনো কলেজ বাদ দেওয়ার মাধ্যমে প্রথম দফায় করা আবেদনটি আপডেট বা সংশোধন করলেই চলবে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক বলেন, সর্বোচ্চ দশটি কলেজ পছন্দক্রম দিয়ে আবেদনের সুযোগ ছিল একাদশে ভর্তিচ্ছুকদের। কিন্তু জিপিএ-৫ শিক্ষার্থীরা অনলাইন আবেদনে দশের কম সংখ্যক কলেজ পছন্দ দেওয়ায় এসব শিক্ষার্থী কলেজ পায়নি। জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর গড়ে ৫টির মতো কলেজ পছন্দ দিয়ে আবেদন করেছে। তবে দ্বিতীয় দফায় তারা আবার আবেদনের সুযোগ পাবে। এক্ষেত্রে তাদের আবেদন আপডেট করতে হবে।
ইকবাল হোসেন/এমএএইচ/এএসএম