বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা হয়ে দর্শক কাঁদিয়েছেন যারা

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২০ পিএম, ২৩ জুন ২০১৯

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা। বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার মসনদে সিরাজের ব্যাপ্তিকাল খুব বেশি নয়। ১৭৫৬ সালের এপ্রিল থেকে ১৭৫৭ সালের জুন পর্যন্ত সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। সিরাজ স্বদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বা দেশ বিক্রি করেননি, তাই বাঙালির মনে তাঁর সিংহাসন অটুট রয়েছে।

নবাবের সাথে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত। ১৭৫৭ সালের জুন ২৩ তারিখে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

এই যুদ্ধে বাংলার সেনাপতি মীরজাফর আলি খানের বেঈমানী ও ষড়যন্ত্রে সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন। সেই সঙ্গে ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সূচিত হয়।

বিশ্ব ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই যুদ্ধ অনেক সাহিত্য-সিনেমাতেই ঠাঁই করে নিয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। তবে এই ইতিহাসকে কেন্দ্র করে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে যতো কাজ হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশের দুটি সিনেমা।

সেখানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে কিংবদন্তী হয়ে আছেন আনোয়ার হোসেন ও প্রবীর মিত্র। সিনেমায় তাদের সাবলীল অভিনয় মুগ্ধ করে রেখেছে দর্শক। রুপালি পর্দায় নবাবের পরাজয় ও করুণ মৃত্যুবরণ কাঁদিয়েছে বাংলার কোটি কোটি দর্শককে।

প্রথম নবাব সিরাজউদ্দৌলা
নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম ছবিটি নির্মিত হয় ১৯৬৭ সালে, পাকিস্তান আমলে। সেই ছবির পরিচালক খান আতাউর রহমান। এর চিত্রনাট্যও করেছেন তিনি।

এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন আনোয়ার হোসেন। আনোয়ারা অভিনয় করেন
বিখ্যাত আলেয়া চরিত্রে। নবাবের স্ত্রী লুৎফা চরিত্রে আছেন আতিয়া চৌধুরী। আর ছবির পরিচালক খান আতাউর রহমান নবাবের বিশ্বস্ত মোহন লাল চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন।

১৯৬৬ সালের ছয় দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আবেগ-জাগানিয়া বিপ্লবী সময়কালেই নির্মিত হয়েছিলো এই ছবিটি। এটি বাঙালিকে পাকিস্তানের দুঃশাসন থেকে মুক্তির অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিলো।

স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবোধে উদ্দীপ্ত এ ছবিতে ঐতিহাসিক উপাদানের চেয়ে নাটকীয়তা ছিল বেশি। ‘বাংলার ভাগ্যাকাশে’ যে ‘দুর্যোগের ঘনঘটা’ সংলাপে ও ছবির সাফল্যে অভিনেতা আনোয়ার হোসেন বনে গিয়েছেন সত্যিকারের ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’। আজও তাকে সবাই বাংলার মুকুটহীন নবাব নামেই সম্বোধন দিয়ে সম্মানিত করেন।

রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা
আজকালকার নির্মাতা ও শিল্পীরা ইতিহাস নির্ভর সিনেমা এড়িয়ে চলেন। তারা ব্যস্ত রয়েছে গল্পের গরু আকাশে উড়িয়ে হিউমারহীন গালগল্পের রোমান্টিক-অ্যাকশান নাম দিয়ে দুর্বল গল্পের সিনেমা নির্মাণে। কিন্তু ঢাকাই সিনেমার ইতিহাস বলে সুন্দর গল্পে ইতিহাসভিত্তিক সিনেমাও সুপারহিট হয়েছে।

১৯৬৭ সালের নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাফল্যের পর ১৯৮৯ সালে নির্মিত হয় ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’। সেই ছবিটিও তুমুল সাড়া ফেলেছিলো। আগের ছবিটির মতো এই ছবিরও চিত্রনাট্য করেছিলেন খান আতাউর রহমান। ছবির গানও লিখেছিলেন তিনি। প্রদীপ দে পরিচালিত সেই ছবিতে রঙিন সাজে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা চরিত্রে হাজির হয়ে দর্শকের মনে দাগ কেটেছিলেন অভিনেতা প্রবীর মিত্র।

ব্যবসা সফল তো বটেই, ঢাকাই সিনেমার আর্কাইভও সমৃদ্ধ করেছে ছবিটি। এখনো বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে ছবিটি প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন।

প্রবীর মিত্রের সঙ্গে বুলবুল আহমেদ দর্শকের মন জয় করেছিলেন তার বন্ধুবর সেনাপতি মোহনলালের চরিত্রে। সেই ছবিতে মীরজাফর চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন প্রয়াত অভিনেতা খলিল। ছবিতে এই দুই অভিনেতার মুখোমুখি একটি দৃশ্য আজও জীবন্ত মানুষের মুখে মুখে।

যেখানে ইংরেজদের হাতে বন্দি হবার পর মোহনলাল হয়ে বুলবুল আহমেদ মীরজাফর খলিলকে অভিশাপ দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাকে হত্যা করতে পারলাম না সত্যি কিন্তু আমি তোমাকে এই অভিশাপ দিচ্ছি, এই পৃথিবীতে মানুষ যতদিন কথা বলবে ততদিন তারা বিশ্বাসঘাতককে মীরজাফর বলে গাল দেবে। তুই বেঈমান মীরজাফর, তুই বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর’।

কী এক সংলাপ! ইতিহাস থেকে সেই সংলাপ সত্যি লুফে নিয়েছে ভারতবর্ষের মানুষ। আজও এখানে বেঈমান-বিশ্বাসঘাতককে মীরজাফর নামেই গালি দেয়া হয়!

ছবিতে নবাবের স্ত্রী চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিনাত এবং নবাবের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ‘আলেয়া’ চরিত্রে এই ছবিতে দর্শক মাতিয়েছেন ‘বেদের মেয়ে জোসনা’খ্যাত অঞ্জু ঘোষ।

সাদাকালো ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ শক্তি ছিলো দুর্দান্ত সব শিল্পীদের তূখোড় অভিনয় ও শক্তিশালী সংলাপ। রঙিন পর্দায় তার সঙ্গে যুক্ত হলো রঙিন পোশাক, লাইট, মনোরম সেট-লোকেশন।

এলএ/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :