শিল্পীরা না খেয়ে মরবে সিনেমার অভাবে : আমির সিরাজী

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১২ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ছেলে চলচ্চিত্রে আসার আগে বাংলাদেশের প্রতিথযশা দশটি যাত্রা দলের হয়ে যাত্রায় অভিনয় করেছেন। খুলনায় বাবুল অপেরার যাত্রায় অংশগ্রহণের সময় চোখে পড়ে ১৯৮৪ সালে ‘চিত্রালী’তে নতুন মুখের সন্ধানের বিজ্ঞাপন। আবেদন করেন তিনিও। আর এভাবেই ঘুরে যায় আমির সিরাজীর ভাগ্যের চাকা। দিনে দিনে তিনি আজ ৭ শতাধিক চলচ্চিত্রের অভিনেতা আমির সিরাজী।

১৯৭৩ সালে গফরগাঁও ডিগ্রি কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করা আমির সিরাজী প্রথম অভিনয় করেন ইবনে মিজান পরিচালিত ‘পাতাল বিজয়’ চলচ্চিত্রে। অভিনয়ে মুক্তিযোদ্ধা আমির সিরাজীর গুরু প্রখ্যাত যাত্রা শিল্পী স্বর্গীয় কুমার ভানু পোদ্দার। চলচ্চিত্রে নিজেকে অভিনয়ে সিদ্ধহস্ত করেছেন প্রয়াত অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার কাছে।

আমির সিরাজী ১৯৯১ সালে বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী হন। তবে এই অভিনেতাকে আগের মতো এখনকার সিনেমায় খুব একটা দেখা যায় না। এই অভিনেতার কিছু কথা জানাচ্ছেন অরণ্য শোয়েব-

জাগো নিউজ : কেমন আছেন?
আমির সিরাজী : এখন পর্যন্ত ভালো আছি, বেঁচে আছি। দেশের যা অবস্থা তাতে করে ভালো থাকার কথা বলা যায় না।এরপরেও জীবন সংগ্রাম করে চলছে।

জাগো নিউজ : চলচ্চিত্রের শুরুটা জানতে চাই আপনার....
আমির সিরাজী : ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে চলেচ্চিত্রে আসি আমি। প্রথম অভিনয় করি ইবনে মিজান পরিচালিত ‘পাতাল বিজয়’ চলচ্চিত্রে। তবে আমার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল মতিন রহমান পরিচালিত ‘রাধা কৃষ্ণ’। চলচ্চিত্রটি ১৯৮৫ সালের ৫ জানুয়ারি মুক্তি পায়। এরপরে ১৯৯১ সালে বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী হই আমি। এরপরে একের এক কাজ করেছি।

জাগো নিউজ : বর্তমান অবস্থা কেমন চলছে ?
আমির সিরাজী : যখন থেকে শুটিং করার পারমিট মিলেছে সেদিন থেকেই টুকটাক কাজ করে চলছি। আমি একজন শিল্পী। আর অভিনয়ই আমার নেশা ও পেশা। এখানেই আমি ডুবে থাকি। বেশ কিছু সিনেমার কাজ শুরু হয়েছে। এর বাইরে পরিবার আছে তাদের সময় দেই।

জাগো নিউজ : আগের মতো সিনেমায় খুব একটা পাওয়া যায় না কেন ?
আমির সিরাজী : সিনেমাই তো নেই। কাজ করবো কি, আর দর্শকই বা দেখবে কী করে আমাকে। আগে বারোশো তেরোশো হল ছিল। বছরে একশো-একশো বিশটি ছবি মুক্তি পেতো। কালের বিবর্তনে এটি এখন ইতিহাস বলা যায়।সিনেমা হল তো নেই বললেই চলে। হুমকির মুখে পড়ে গেছে ইন্ডাস্ট্রি ও শিল্পীরা।

জাগো নিউজ : সিনেমা কমে যাওয়ার কারণ কি বলে মনে হয় আপনার?
আমির সিরাজী : এখন টেকনোলজি হাতের মুঠোয়। আমরা যা চাই তাই পেয়ে যাচ্ছি সহজেই। স্যাটেলাইট সবাইকে স্মার্ট করে দিয়েছে। আর এখন মোবাইল-কম্পিউটারেই মানুষ সিনেমা দেখতে পায়। আবার ইন্ডাস্ট্রিতেও প্রবলেম আছে। প্রযোজক নেই। তারপর এখন সিনেমা বানানোর খরচ বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী টাকা উঠে আসছে না। যার কারণে প্রযোজকের কোটা শূন্য প্রায়। যারা সিনেমা বানাচ্ছেন বেশিরভাগই শখের বশে। নেই হল নিয়ে কোনো চিন্তা ভাবনা।

জাগো নিউজ : চলচ্চিত্রের ১৯ সংগঠন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জায়েদ-মিশাকে বয়কটের। একজন সিনিয়ির শিল্পী হিসেবে আপনার বক্তব্য কি?
আমির সিরাজী : আমি একজন শিল্পী। তাই আমি শিল্পী সমিতির পক্ষে। তবে ব্যাক্তি কারোর পক্ষে নই। যার যা অপরাধ তা তদন্ত করে বের করে শাস্তি করা হোক। দোষ না থাকলে কাউকে অপমান করা একদমই উচিত নয়। মনটা বড় করে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতে হবে। মিলেমিশে থাকতে হবে। সিনেমার উন্নয়ন হয় সেটা ভেবে এগুতে হবে।

জাগো নিউজ : শিল্পীদের মধ্যে এখন বিভাজন। আগেও কি এমনটা ছিলো?
আমির সিরাজী : শিল্পীদের মধ্যে বিভাজন ছিলো না কখনোই। একটা সুন্দর প্রতিযোগিতা ছিলো। সেটা বেশি কাজ করার, ভালো কাজ তাগিদ দিতো। আমরা মিলেমিশে কাজ করেছি সবসময়। এখন সিনেমা নেই শুধু বয়কট বয়কট খেলা চলছে। এক সমিতি আরেক সমিতিকে বয়কট করে, এ ওকে বয়কট করে। এতে করে কোনো লাভ হচ্ছে? আর কদিন পর দেখবেন দরিদ্র শিল্পীরা না খেয়ে মরবে সিনেমার অভাবে।

জাগো নিউজ : এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনার ভাবনায় কি করা উচিত?
আমির সিরাজী : বাংলা সিনেমার ভবিষৎ এখন সরকারের হাতে। সরকার যদি সাহায্য করে, পরিকল্পনা নেয়, সঠিক মানুষকে দায়িত্ব দেয় তাহলেই আমি মরে ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে। সঠিক জায়গায় সঠিক লোক নেই।

জাগো নিউজ : ক্যারিয়ারে অনেক বড় তারকাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। পছন্দের তালিকা লম্বা হবে স্বাভাবিক। জানতে চাইবো এ প্রজন্মের আপনার পছন্দের নায়ক-নায়িকা কারা?
আমির সিরাজী : আমার সবার সঙ্গেই কাজ করতে ভালো লাগে। সবাই সমান আমার কাছে একজন শিল্পী হিসেবে। ব্যক্তিগতভাবে বলার মতো বিশেষ পছন্দের কেউ নেই।

এলএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]