ভালো নেই নায়ক ফারুক : সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে কাটছে জন্মদিন

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৬ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২১

কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা ও সংসদ সদস্য ফারুকের জন্মদিন আজ। ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তবে ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণের পর আর কখনোই নিজের জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপন করেননি এই নায়ক।

এমনকি ছোটবেলা থেকেই তার জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপিত হতো না। কারণ মাত্র আট বছর বয়সে ফারুক তার মা আফজালুন্নেসাকে হারিয়েছেন। মাকে হারানোর পর থেকেই যেন ফারুক জীবন সংগ্রামে পড়ে যান। তাই জন্মদিন নিয়ে কখনোই তার বিশেষ কোনো আগ্রহ ছিল না। ছোট পরিসরে কিছু আয়োজন থাকে পারিবারিক আয়োজনে।

তবে এবার সেটাও হচ্ছে না। বরং তাকে ঘিরে পরিবারের সদস্য ও ভক্ত-অনুরাগীদের মনে জমে আছে বিষাদের কালো মেঘ। অভিনেতা প্রায় এক বছর ধরেই গুরুতর অসুস্থ। বর্তমানে ফারুক সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বেশ দীর্ঘ সময় কোমায় ছিলেন। এরপর তার স্ত্রী ও পুত্রের বরাতে জানা যায় জ্ঞান ফিরেছে তার। তবে সুস্থতা আসেনি এখনো।

নায়ক ফারুক গত ৪ মার্চ থেকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তার স্ত্রী ফারহানা ফারুক।

জীবনের ৭৪ বছর শুরু করা ফারুকের পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু। ফারুক নামে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। শৈশব-কৈশোর ও যৌবনে তিনি খুবই দূরন্ত ছিলেন। আর ওই সময়টা কেটেছে গ্রামের বাড়ি ও পুরান ঢাকায়। এখন তিনি থাকেন উত্তরায় নিজ বাড়িতে।

গ্রামের বাড়ি গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণসোম গ্রামে। বাবার নাম আজগর হোসেন। ৫ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। ব্যক্তি জীবনে ফারুক ভালোবেসে বিয়ে করেন ফারহানা ফারুককে। তাদের দাম্পত্য জীবনে ফারিহা তাবাসসুম নামের একটি কন্যা ও রওশন হোসেন শরৎ নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

চিত্রনায়ক ফারুক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামনের ডাকে সারা দিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এনে দেন স্বাধীন সার্বভৌত্বের লাল সূর্য। বিশ্ব মানচিত্রে অঙ্কন করেন বাংলা নামের একটি দেশের জলছবি। বর্তমানে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ফারুক।

১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ সিনেমাতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দার রঙিন জীবনে ফারুকের অত্মপ্রকাশ হয়। প্রথম ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন মিষ্টি মেয়ে কবরী। এরপর ১৯৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র খান আতাউর রহমানের পরিচালনায় ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ও ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’, এ দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

১৯৭৫ সালে তার অভিনীত ‘সুজন সখী’ ও ‘লাঠিয়াল’ ছবি দুটি ব্যাপক ব্যবসা সফল হয়। ওই বছর ‘লাঠিয়াল’ -এর জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৭৬ সালে সূর্যগ্রহণ ও নয়নমনি, ১৯৭৮ সালে শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত আব্দুল্লাহ আল মামুনের ‘সারেং বৌ’, আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’সহ বেশকিছু ছবিতে মিয়া ভাই খ্যাত চিত্রনায়ক ফারুকের অভিনয়ন প্রশংসিত হয়।

চলচ্চিত্র ও রাজনীতি জীবনের বাইরে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। গাজীপুরে অবস্থিত নিজ শিল্প প্রতিষ্ঠান ফারুক নিটিং ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি।

বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যও।

এলএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]