প্লেগ থেকে করোনা, মহামারীর যত ইতিহাস

ডা. হিমেল ঘোষ
ডা. হিমেল ঘোষ ডা. হিমেল ঘোষ , চিকিৎসক
প্রকাশিত: ০১:৩২ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২০

কোনো সংক্রামক রোগ যখন বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর মাঝে খুব দ্রুত সংক্রমিত হয়ে পড়ে; তখন বলা হয় রোগটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। পৃথিবীতে যুগে যুগে অসংখ্য মহামারীর ঘটনা ঘটেছে এবং এসব মহামারীতে মৃত্যু হয়েছে কোটি কোটি মানুষের। এসব মহামারীতে প্লেগ আর ফ্লুর নামই সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। অনেক সময় দেখা যায়, নানা কারণে একটি ছোট অঞ্চলে প্রাদুর্ভাব ঘটা রোগ ছড়িয়ে যায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। তখন এ মহামারী রূপ নেয় প্যান্ডেমিক বা বিশ্বমারীতে।

মহামারীর সংখ্যা: ইতিহাসে অর্ধশতাধিক মহামারীর লিখিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। মহামারীগুলোতে মানব জাতি বিভিন্ন সময়ে বড় সংকটে পড়েছিল। ২০১৯ সালে এশিয়ার কয়েকটি দেশে এডিস মশা বাহিত রোগ ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। ফিলিপাইনে প্রায় ৭২০ জন ডেঙ্গুতে মারা যান। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়েছিল ডেঙ্গু। বাংলাদেশেও ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়িয়েছিল। ২০২০ সালে এসে করোনাভাইরাস ঘটিত কোভিড-১৯ কে প্যান্ডেমিক ঘোষণা করা হয়েছে।

যুগ-যুগান্তরের বিশ্বসভ্যতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ মহামারীর ইতিহাস ঘাটলে আমরা দেখতে পাই—

৪৩০ খ্রিষ্টপূর্ব: এপিডেমিক অব এথেন্স
খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩০ অব্দে স্পার্টানদের সাথে গ্রিকদের যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধে খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারছিল না গ্রিকরা। তার ওপর ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ হয়ে আসে ‘দ্য প্লেগ অব এথেন্স’ নামে পরিচিত পৃথিবীর প্রথম প্লেগ মহামারী। এ মহামারীতে হাজার হাজার গ্রিক সৈন্য মারা যায় কয়েক দিনের ব্যবধানে। তবে ইতিহাসবিদদের মাঝে এ প্লেগের ধরন নিয়ে বিস্তর মতপার্থক্য রয়েছে।

cover-(2)

অন্যদিকে এথেন্সের প্লেগ মহামারী নিয়ে খুব বেশি তথ্য যে জানা গেছে- এমনও নয়। তাই এর প্রকৃত ধরন আমরা হয়তো কোনোদিন জানতে পারবো না। আবার এ মহামারীতে ঠিক কতজন মানুষ মারা গিয়েছিল, তা-ও জানা সম্ভব নয়। আক্ষরিক অর্থে, এথেন্সের প্রাচীন মহামারী সম্পর্কে আমরা যা কিছু জানি সবই গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডসের রচনাংশ ‘হিস্ট্রি অব দ্য পেলোপনেসিয়ান ওয়্যার’ থেকে পাওয়া। অবশ্য থুসিডাইডসের তথ্য নিয়ে খুব একটি সন্দেহ নেই কোনো ইতিহাসবিদের মনে। কারণ থুসিডাইডস এ কুখ্যাত প্লেগ নিজ চোখেই দেখেছেন, যা গ্রামের পর গ্রাম জনমানবহীন করে দিয়েছিল।

আবার আর একদল ইতিহাসবিদের মতে, ৪৩০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এথেন্সে মহামারী হয়েছিল টাইফয়েড, টাইফাস জ্বর, গুটিবসন্ত কিংবা অ্যানথ্রাক্সে। তবে এ দলের বেশিরভাগ মনে করেন, মহামারী হয়েছিল গুটিবসন্তের জন্য। রোগটি ভেরিওলা ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রামক এ রোগটি একজন মানুষের ত্বকের সাথে আরেকজনের স্পর্শে ছড়ায়। এমনকি বাতাসের মাধ্যমেও এ রোগ ছড়ায় এবং এ কারণে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩০ এ গ্রিসের এথেন্সে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায়, যা ছিল ওই নগরের ২০ শতাংশ মানুষ।

cover-(2)

৫৪১ খ্রিষ্টাব্দ: দ্য প্লেগ অব জাস্টিনিয়ান
বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী সম্রাট জাস্টিনিয়ান রোমান সাম্রাজ্যের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য যেসব অভিযান চালিয়েছিলেন, সেগুলোর জন্য ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কিন্তু সেসব অভিযান ছাপিয়ে তার নাম অধিকবার উচ্চারিত হয় তার শাসনামলে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ মহামারীর কারণে। ৫৪০-৫৪১ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মিশরে এক ভয়ানক প্লেগের উৎপত্তি ঘটে।

এবার এ রোগ বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে ইঁদুর। তৎকালীন পৃথিবীতে মিশরই ছিল সমগ্র ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের খাদ্যশস্যের জোগান। ফলে এখানে সৃষ্ট রোগ সহজেই পূর্ব থেকে পশ্চিমে ছড়িয়ে যায়। রোগের প্রথম আক্রমণটা ছিল বাইজান্টাইনের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলে (বর্তমান ইস্তাম্বুল)। কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে, মহামারীর চূড়ান্ত পর্যায়ে সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার মানুষ মারা যেত!

প্রায় ৫০ বছর টিকে থাকা এ মহামারী আড়াই কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। তবে কিছু কিছু উৎসে সংখ্যাটা ১০ কোটিতেও ঠেকেছে। প্রাচীন পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক এ মহামারীই ইউরোপে ‘ডার্ক এজ’র সূচনা করেছিল।

১৩৩৪ সাল: দ্য গ্রেট প্লেগ অব লন্ডন
গ্রেট প্লেগ অব লন্ডন হিসেবে স্বীকৃত ১৩৩৪ সালের প্লেগ আসলে ছড়ায় চীন থেকে। এরপর ইতালির ফ্লোরেন্স শহরেই ছয় মাসে প্লেগে মারা যায় ৯০ হাজার মানুষ। পুরো ইউরোপজুড়ে মারা যায় আড়াই কোটি মানুষ।

cover-(2)

১৩৪৬ সাল: দ্য ব্ল্যাক ডেথ
পৃথিবীর ইতিহাসে কিংবা একটু ছোট পরিসরে বললে ইউরোপের ইতিহাসে ব্ল্যাক ডেথের মতো আলোচিত মহামারী আর নেই। এরকম ভয়ানক, সর্বগ্রাসী রোগের প্রাদুর্ভাব সম্ভবত পৃথিবী একবারই দেখেছিল ১৪ শতকে। কৃষ্ণ সাগরের (ব্ল্যাক সি) উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল বিধায় একে ব্ল্যাক ডেথ বলা হয়। সেসময় ইউরোপ ও এশিয়ার বাণিজ্য হতো এ কৃষ্ণ সাগর দিয়েই। আর এখান থেকে খাদ্যদ্রব্যের জাহাজগুলোতে চড়ে বসতো অসংখ্য ইঁদুর, যেগুলো কি-না রোগের প্রধান জীবাণুবাহী।

তবে ব্ল্যাক ডেথের সময় মানুষ কোন রোগটিতে অধিক হারে মৃত্যুবরণ করেছিল, তা নিয়ে ইতিহাসবিদগণ দ্বিধাবিভক্ত। একাংশের মতে, রোগটি ছিল এক প্রকার গ্রন্থিপ্রদাহজনিত প্লেগ। অন্য অংশের দাবি, এ ভয়ানক মহামারী ঘটেছিল ইবোলা ভাইরাসের কারণে।

১৩৪৭-৫১ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালই ছিল ব্ল্যাক ডেথের সবচেয়ে বিধ্বংসী সময়। এ সময় ইউরোপের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের প্রাণবায়ু কেড়ে নেয় এ মহামারী। তবে এ অভিশপ্ত মহামারীর প্রভাব টিকে ছিল অন্তত ২০০ বছর। ইতিহাসবিদদের মতে, এ ২০০ বছরে অন্তত ১০ কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন! এটি এমনই এক মহামারী ছিল যে, এর কারণে সমগ্র ইউরোপের অর্থনৈতিক সার্বিক জীবন কাঠামোই বদলে যায়, প্রভাবিত হয় শিল্প-সাহিত্যও। ব্ল্যাক ডেথের রেখে যাওয়া গভীর ক্ষত বয়ে বেড়াতে হয় পরবর্তী বেশ কয়েক প্রজন্মের।

১৫১৯ সাল: স্মলপক্স এপিডেমিক অব মেক্সিকো
বর্তমান মেক্সিকোতে ১৫১৯ সালে স্মলপক্স ছড়িয়ে পড়লে দুই বছরে মারা যায় প্রায় ৮০ লাখ মানুষ।

১৬৩৩ সাল: স্মলপক্স এপিডেমিক অব আমেরিকা
ফ্রান্স, গ্রেট বৃটেন ও নেদারল্যান্ডসবাসীর মাধ্যমে ১৬৩৩ সালে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে স্মলপক্স ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ২ কোটি মানুষ মারা যায় বলে দাবি করেন ইতিহাসবিদরা।

১৭৯৩ সাল: ইয়েলো ফিভার এপিডেমিক অব আমেরিকা
আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ায় ১৭৯৩ সালে ইয়েলো ফিভার মহামারী আকার ধারণ করে। এতে নগরের ১০ ভাগের এক ভাগ, প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ মারা যায়।

১৮৬০ সাল: দ্য থার্ড প্লেগ প্যানডেমিক
ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্তৃত আকারে প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটে মোটামুটি ৩ বার। তৃতীয়টির উৎপত্তি ১৯ শতকে চীনে, যখন বিশ্ববাণিজ্যে ভালোরকম প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে দেশটি। ইউয়ান নামক একটি ছোট্ট গ্রামে প্রথম এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ক্রমে তা বিস্তার লাভ করতে করতে হংকং আর গুয়াংঝু প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে, যে শহরগুলোর সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরাসরি বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল। ফলে প্লেগ ছড়িয়ে যায় ভারত, আফ্রিকা, ইকুয়েডর, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও। প্রায় দুই দশক স্থায়ী এ মহামারীতে প্রাণ হারায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ।

cover-(2)

কোনো কোনো ইতিহাসবিদের বর্ণনায় সংখ্যাটা ছাড়িয়েছে দেড় কোটির কোটা! সেসময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছিল বেশ ভালোভাবেই। পূর্বের অনেক মরণঘাতি রোগই তখন প্রতিনিয়ত ডাক্তারদের নিরাময় করার সক্ষমতার মধ্যে চলে আসতে শুরু করে। আর এ কারণেই মূলত চতুর্থবার বিস্তীর্ণভাবে প্লেগ মহামারী ঘটেনি। সেবারই বিশ্বজুড়ে চিকিৎসক সমাজের প্রতিকার প্রতিবিধান করে। পরে ১৮৯০ এর দশকে প্লেগের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন হয়।

১৯১০ সাল: দ্য প্লেগ এপিডেমিক অব ফার্স্ট ডিকেড
বিশ শতকের সবচেয়ে বড় প্লেগ মহামারী দেখা দেয় ১৯১০ সালে। চীনের মাঞ্চুরিয়ায় দুই বছরে মারা যায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। এটি চতুর্থবার প্লেগের মহামারী হলেও তা বিস্তীর্ণভাবে ছড়ায়নি।

১৯১৬ সাল: দ্য পোলিও এপিডেমিক অব আমেরিকা
১৯১৬ সালে পোলিও রোগ প্রথম মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সেবছর নিউইয়র্কে ৯ হাজার মানুষ পোলিওতে আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে ৬ হাজার মানুষই মৃত্যুবরণ করে! চিকিৎসাবিজ্ঞান তখন যথেষ্টই উন্নত হলেও চিন্তার বিষয় ছিল যে, এ মহামারীতে মৃত্যুর হার আগের যেকোনো মহামারীর চেয়ে বেশি ছিল! নিউইয়র্ক শহর থেকে ক্রমে পোলিওর প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবছর বিশ্বে কত শত মানুষ পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তার কোনো সঠিক তথ্যও পাওয়া যায় না। অবশেষে ১৯৫০ সালে জোনাস সাল্ক পোলিও টিকা আবিষ্কার করলে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ কমে যায়।

১৯১৮ সাল: দ্য ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিক বা দ্য গ্রেট ফ্লু প্যানডেমিক
নানা কারণে আলোচিত বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ছিল আক্ষরিক অর্থে হত্যা আর প্রাণহানীতে পূর্ণ। ১৯১৮ সালের নভেম্বরে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে, রক্তস্রোত দেখতে দেখতে ক্লান্ত বিশ্ববাসী যখন পরিত্রাণের আশায় মুক্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে, তখন তাদের নীরবে শুরু হয়ে গিয়েছিল আরেক মৃত্যুর মিছিল। এ মিছিলটি ‘দ্য ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিক’ নামে পরিচিত। বিশ্বযুদ্ধের শেষ প্রান্তেই এর সূচনা হলেও মহামারী আকারে বিস্তার ঘটে ১৯১৯ সালে। অল্প সময়ের মাঝেই সমগ্র বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জায়, মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকে।

cover-(2)

৪ বছরের অধিক কাল বিস্তৃত প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যেখানে ২ কোটির মতো মানুষ প্রাণ হারায়, সেখানে মাত্র এক বছরেই ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিক কেড়ে নেয় ১ কোটির বেশি মানুষের প্রাণ! দেশে দেশে সরকার সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরিধানের জন্য আইন পাস করে, দীর্ঘদিনের জন্য বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়, খাদ্যদ্রব্যের বাজারগুলোতে লোক সমাগম নিয়ন্ত্রণ করা হতো কঠোরভাবে। ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা মানুষের শবদেহ কাটাছেঁড়া করে ডাক্তাররাও বিচলিত হয়ে উঠতেন। দেখা যেতো, তাদের ফুসফুস নীল এবং স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে থাকতো। মনে হতো যেন তারা পানিতে ডুবে মারা গিয়েছেন।

১৯৭০ সাল: স্মলপক্স এপিডেমিক অব ইন্ডিয়া
গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার হয়েছিল ১৮ শতকের শেষভাগে (১৭৯৬ সালে)। এডওয়ার্ড জেনার এ টিকা আবিষ্কার করেন। এটিই ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম সফল টিকা। অথচ টিকা আবিষ্কারের প্রায় ২০০ বছর পরও এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে!

১৯৭০ সালে ভারতে হঠাৎ মহামারী আকারে ছড়িয়ে যায় গুটি বসন্ত। ১ লক্ষাধিক মানুষ রাতারাতি এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এক বছরেই মৃত্যুবরণ করে ২০ হাজারের বেশি মানুষ। যদিও এ তালিকার অন্যান্য মহামারীর তুলনায় এ মৃত্যুর সংখ্যাটা বেশ কম, তথাপি চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক সময়ে, যখন বিশ্ব প্রায় গুটি বসন্ত মুক্ত হয়ে গেছে, তখন ভারতের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে এরূপ মহামারী ছিল বেশ হতাশাজনক। পরবর্তী কয়েকবছরে ভারত সরকার এবং জাতিসংঘের সহায়তায় গঠিত একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৫ সালেই ভারতকে গুটি বসন্ত মুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হয়।

১৯৮৪ সাল: এইচআইভি ভাইরাস
প্রথম এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয় ১৯৮৪ সালে। এ ভাইরাসের কারণে এইডস রোগে সে বছরই আমেরিকায় মারা যায় ৫,৫০০ জন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। আর এ পর্যন্ত এইডসে মারা গেছে আড়াই কোটির বেশি মানুষ।

২০০৩ সাল: সার্স এপিডেমিক
‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম’ তথা সার্স নামটি মহামারীর তালিকায় নতুন এবং আমাদের কাছে খুব পরিচিত। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বায়ুবাহিত এ রোগের জীবাণু সহজেই ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম বলে জনমনে সংক্রমণের আশঙ্কাটা ছিল বেশি। এশিয়ার সামান্য কিছু অংশসহ ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় সার্স ছড়িয়ে পড়ে। সার্সের জীবাণু দেহে প্রবেশ করলে প্রাথমিকভাবে মাথাব্যথা, জ্বর থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে শুষ্ক কাশি শুরু হয়, যা একসময় নিউমোনিয়ায় পরিণত হয়। সার্সের কোনো নিজস্ব চিকিৎসা নেই। তাই ডাক্তাররা এর প্রতিকার থেকে প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেন, যে কারণে ২০০৩ সালে সার্সের প্রাদুর্ভাবের সময় সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সমগ্র উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশে কয়েক লক্ষাধিক মানুষ সার্স দ্বারা আক্রান্ত হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান দ্রুত কাজ শুরু করলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারেনি। মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী সার্স নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এসময় এ রোগে মৃত্যু হয় ৭৩৭ জনের।

in-(1)

২০০৯ সাল: সোয়াইন ফ্লু এপিডেমিক
বিশ্বজুড়ে ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু বা এইচ ওয়ান এন ওয়ান ফ্লুতে ১৮,৫০০ জন মারা গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ লাখ ৭৫ হাজার বলেও ধারণা করা হয়।

২০১০ সাল: কলেরা এপিডেমিক অব হাইতি
হাইতিতে ২০১০ সালে ভয়ঙ্কর এক ভূমিকম্পের পর কলেরা মহামারী রূপ নিলে ১০ হাজার মানুষ মারা যায়।

২০১২ সাল: হাম
বিশ্বজুড়ে ২০১২ সালে ভাইরাসজনিত রোগ হামে মারা যায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ। সে বছর পুরো বিশ্বে ব্যাকটেরিয়া সংক্রামক রোগ টিউবারকিউলোসিসে মারা যায় ১.৩ মিলিয়ন মানুষ। এছাড়া প্রতিবছর টাইফয়েড জ্বরে মারা যাচ্ছে ২ লাখ ১৬ হাজার মানুষ।

২০১৪ সাল: ইবোলা এপিডেমিক
পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪ সালে ইবোলা জ্বরে মারা যায় অন্তত ১১,৩০০ জন।

২০২০ সাল: কোভিড-১৯ প্যানডেমিক
এখনো পর্যন্ত চলমান এ প্যানডেমিকে প্রায় ৪ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। ১৫০টির কাছাকাছি দেশে ছড়িয়ে পরা করোনাভাইরাস ঘটিত এ রোগের উৎপত্তি ছিল চীন এবং ইউরোপের এপিসেন্টার ইতালি।

এসইউ/এমএস

করোনা ভাইরাস - লাইভ আপডেট

৭,৯৯,৭৪১
আক্রান্ত

৩৮,৭২১
মৃত

১,৬৯,৯৯৫
সুস্থ

# দেশ আক্রান্ত মৃত সুস্থ
বাংলাদেশ ৫১ ২৫
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১,৬৪,৩৫৯ ৩,১৭৩ ৫,৫০৭
ইতালি ১,০১,৭৩৯ ১১,৫৯১ ১৪,৬২০
স্পেন ৯৪,৪১৭ ৮,১৮৯ ১৯,২৫৯
চীন ৮১,৫১৮ ৩,৩০৫ ৭৬,০৫২
জার্মানি ৬৭,০৫১ ৬৫০ ১৩,৫০০
ইরান ৪৪,৬০৫ ২,৮৯৮ ১৪,৬৫৬
ফ্রান্স ৪৪,৫৫০ ৩,০২৪ ৭,৯২৭
যুক্তরাজ্য ২২,১৪১ ১,৪০৮ ১৩৫
১০ সুইজারল্যান্ড ১৫,৯২২ ৩৫৯ ১,৮২৩
১১ বেলজিয়াম ১২,৭৭৫ ৭০৫ ১,৬৯৮
১২ নেদারল্যান্ডস ১১,৭৫০ ৮৬৪ ২৫০
১৩ তুরস্ক ১০,৮২৭ ১৬৮ ১৬২
১৪ অস্ট্রিয়া ৯,৮৫১ ১২৮ ১,০৯৫
১৫ দক্ষিণ কোরিয়া ৯,৭৮৬ ১৬২ ৫,৪০৮
১৬ কানাডা ৭,৪৭৪ ৯২ ১,১১৪
১৭ পর্তুগাল ৬,৪০৮ ১৪০ ৪৩
১৮ ইসরায়েল ৪,৮৩১ ১৭ ১৬৩
১৯ ব্রাজিল ৪,৬৬১ ১৬৫ ১২৭
২০ অস্ট্রেলিয়া ৪,৫৫৭ ১৯ ৩৩৭
২১ নরওয়ে ৪,৪৯৫ ৩৪ ১৩
২২ সুইডেন ৪,০২৮ ১৪৬ ১৬
২৩ আয়ারল্যান্ড ২,৯১০ ৫৪
২৪ ডেনমার্ক ২,৮১৫ ৭৭
২৫ মালয়েশিয়া ২,৭৬৬ ৪৩ ৫৩৭
২৬ চিলি ২,৪৪৯ ১৫৬
২৭ রাশিয়া ২,৩৩৭ ১৭ ১২১
২৮ রোমানিয়া ২,২৪৫ ৬৯ ২২০
২৯ পোল্যান্ড ২,১৩২ ৩১
৩০ ফিলিপাইন ২,০৮৪ ৮৮ ৪৯
৩১ লুক্সেমবার্গ ১,৯৮৮ ২২ ৮০
৩২ ইকুয়েডর ১,৯৬৬ ৬২ ৫৪
৩৩ জাপান ১,৯৫৩ ৫৬ ৪২৪
৩৪ পাকিস্তান ১,৮৬৫ ২৫ ৭৬
৩৫ থাইল্যান্ড ১,৬৫১ ১০ ৩৪২
৩৬ ইন্দোনেশিয়া ১,৫২৮ ১৩৬ ৮১
৩৭ সৌদি আরব ১,৪৫৩ ১১৫
৩৮ ফিনল্যাণ্ড ১,৪১৮ ১৩ ১০
৩৯ দক্ষিণ আফ্রিকা ১,৩২৬ ৩১
৪০ ভারত ১,২৫১ ৩২ ১০২
৪১ গ্রীস ১,২১২ ৪৬ ৫২
৪২ মেক্সিকো ১,০৯৪ ২৮ ৩৫
৪৩ আইসল্যান্ড ১,০৮৬ ১৫৭
৪৪ পানামা ১,০৭৫ ২৭
৪৫ আর্জেন্টিনা ৯৬৬ ২৪ ২২৮
৪৬ পেরু ৯৫০ ২৪ ৫৩
৪৭ ডোমিনিকান আইল্যান্ড ৯০১ ৪২
৪৮ সিঙ্গাপুর ৮৭৯ ২২৮
৪৯ স্লোভেনিয়া ৮০২ ১৫ ১০
৫০ কলম্বিয়া ৭৯৮ ১৪ ১৫
৫১ কলম্বিয়া ৭৯৮ ১৪ ১৫
৫২ ক্রোয়েশিয়া ৭৯০ ৬৭
৫৩ সার্বিয়া ৭৮৫ ১৬ ৪২
৫৪ এস্তোনিয়া ৭৪৫ ২৬
৫৫ হংকং ৭১৪ ১২৮
৫৬ ডায়মন্ড প্রিন্সেস (প্রমোদতরী) ৭১২ ১০ ৬০৩
৫৭ কাতার ৬৯৩ ৫১
৫৮ মিসর ৬৫৬ ৪১ ১৫০
৫৯ নিউজিল্যান্ড ৬৪৭ ৭৪
৬০ ইরাক ৬৩০ ৪৬ ১৫২
৬১ সংযুক্ত আরব আমিরাত ৬১১ ৬১
৬২ আলজেরিয়া ৫৮৪ ৩৫ ৩৭
৬৩ মরক্কো ৫৭৪ ৩৩ ১৫
৬৪ ইউক্রেন ৫৪৯ ১৩
৬৫ লিথুনিয়া ৫৩৩
৬৬ আর্মেনিয়া ৫৩২ ৩০
৬৭ বাহরাইন ৫১৫ ২৯৫
৬৮ হাঙ্গেরি ৪৯২ ১৬ ৩৭
৬৯ চেক রিপাবলিক ৪৬৪
৭০ লেবানন ৪৬৩ ১২ ৩৫
৭১ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ৪১১ ১০ ১৭
৭২ লাটভিয়া ৩৯৮
৭৩ বুলগেরিয়া ৩৭৯ ১৭
৭৪ এনডোরা ৩৭০ ১০
৭৫ স্লোভাকিয়া ৩৬৩
৭৬ তিউনিশিয়া ৩৬২
৭৭ কাজাখস্তান ৩৩৬ ২২
৭৮ কোস্টারিকা ৩৩০
৭৯ তাইওয়ান ৩২২ ৩৯
৮০ উরুগুয়ে ৩২০ ২৫
৮১ মলদোভা ২৯৮ ১৮
৮২ চেক রিপাবলিক ২৯৩
৮৩ কুয়েত ২৮৯ ৭৩
৮৪ উত্তর ম্যাসেডোনিয়া ২৮৫ ১২
৮৫ আজারবাইজান ২৭৩ ২৬
৮৬ জর্ডান ২৬৮ ২৬
৮৭ বুর্কিনা ফাঁসো ২৪৬ ১২ ৩১
৮৮ আলবেনিয়া ২৪৩ ১৩ ৫২
৮৯ সান ম্যারিনো ২৩০ ২৫ ১৩
৯০ সাইপ্রাস ২৩০ ২২
৯১ রিইউনিয়ন ২২৪
৯২ ভিয়েতনাম ২০৪ ৫৫
৯৩ ক্যামেরুন ১৯৩
৯৪ ওমান ১৯২ ৩৪
৯৫ সেনেগাল ১৭৫ ৪০
৯৬ আফগানিস্তান ১৭৪
৯৭ কিউবা ১৭০
৯৮ মালটা ১৬৯
৯৯ ফারে আইল্যান্ড ১৬৯ ৭৪
১০০ আইভরি কোস্ট ১৬৮
১০১ উজবেকিস্তান ১৫৮
১০২ বেলারুশ ১৫২ ৪৭
১০৩ ঘানা ১৫২
১০৪ হন্ডুরাস ১৪১
১০৫ নাইজেরিয়া ১৩৫
১০৬ ভেনেজুয়েলা ১৩৫ ৩৯
১০৭ শ্রীলংকা ১২৯ ১৬
১০৮ ব্রুনাই ১২৯ ৪৫
১০৯ ফিলিস্তিন ১১৭ ১৮
১১০ জর্জিয়া ১১০ ২১
১১১ কম্বোডিয়া ১০৯ ২৩
১১২ বলিভিয়া ১০৭
১১৩ কিরগিজস্তান ১০৭
১১৪ গুয়াদেলৌপ ১০৬ ১৭
১১৫ মন্টিনিগ্রো ১০৫
১১৬ মার্টিনিক ৯৩
১১৭ ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ৮৫
১১৮ মায়োত্তে ৮২ ১০
১১৯ রুয়ান্ডা ৭০
১২০ জিব্রাল্টার ৬৯ ৩৪
১২১ প্যারাগুয়ে ৬৫
১২২ লিচেনস্টেইন ৬৪
১২৩ কেনিয়া ৫০
১২৪ আরুবা ৫০
১২৫ মোনাকো ৪৯
১২৬ ফ্রেঞ্চ গায়ানা ৪৩
১২৭ ফ্রেঞ্চ গায়ানা ৪৩
১২৮ পুয়ের্তো রিকো ৩৯
১২৯ ম্যাকাও ৩৮ ১০
১৩০ গুয়াতেমালা ৩৬ ১০
১৩১ ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া ৩৬
১৩২ জ্যামাইকা ৩৬
১৩৩ বার্বাডোস ৩৪
১৩৪ গুয়াম ৩২
১৩৫ টোগো ৩০
১৩৬ নাইজার ২৭
১৩৭ ইথিওপিয়া ২৫
১৩৮ গিনি ২২
১৩৯ কঙ্গো ১৯
১৪০ তানজানিয়া ১৯
১৪১ মালদ্বীপ ১৮ ১৩
১৪২ গ্যাবন ১৬
১৪৩ বাহামা ১৪
১৪৪ মঙ্গোলিয়া ১২
১৪৫ ইকোয়েটরিয়াল গিনি ১২
১৪৬ কেম্যান আইল্যান্ড ১২
১৪৭ ডোমিনিকা ১২
১৪৮ নামিবিয়া ১১
১৪৯ সিসিলি ১০
১৫০ গ্রীনল্যাণ্ড ১০
১৫১ সেন্ট লুসিয়া
১৫২ সুরিনাম
১৫৩ গায়ানা
১৫৪ অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা
১৫৫ সুদান
১৫৬ অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা
১৫৭ ভ্যাটিকান সিটি
১৫৮ মৌরিতানিয়া
১৫৯ বেনিন
১৬০ ভ্যাটিকান সিটি
১৬১ নেপাল
১৬২ মন্টসেরাট
১৬৩ ভুটান
১৬৪ গাম্বিয়া
১৬৫ তাজিকিস্তান
১৬৬ সেন্ট পিয়ের ও মিকুয়েলন
১৬৭ লাইবেরিয়া
১৬৮ সোমালিয়া
১৬৯ মার্কিন ভার্জিন আইল্যান্ড
১৭০ ক্রিস্টমাস আইল্যান্ড
১৭১ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র
১৭২ সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইন আইল্যান্ড
তথ্যসূত্র: চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (সিএনএইচসি) ও অন্যান্য।