জ্যামাইকায় আঘাত হানছে এ বছরের সবচেয়ে বড় ঘূর্ণিঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩২ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
ঘূর্ণিঝড় মেলিসার প্রভাব। ছবি: এএফপি

ঘূর্ণিঝড় মেলিসা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭৫ মাইল (২৮২ কিলোমিটার) বেগে জ্যামাইকায় আঘাত হানতে শুরু করেছে। এটি বর্তমানে ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার ঝড়। এটিকে এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের বিপর্যয়কর ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ঘোষণা করেছে মার্কিন জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র (এনএইচসি)।

এর আগে সবশেষ আপডেটে জানানো হয় সোমবার রাত বা মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে জ্যামাইকার মূল ভূখণ্ড অতিক্রম করবে ঘূর্ণিঝড়টি। এরপর মঙ্গলবার রাতেই কিউবার পূর্বাঞ্চল দিয়ে বয়ে গিয়ে বুধবারের মধ্যে বাহামা ও টার্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হবে।

এনএইচসি জানিয়েছে, অস্বাভাবিক উষ্ণ ক্যারিবীয় সাগরের পানি মেলিসাকে ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। ফলে এই ঝড়ে অভূতপূর্ব বেগের বাতাস ও প্রায় ৩ ফুট পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

এখন পর্যন্ত মেলিসার বায়ুর পরিধি জ্যামাইকার দৈর্ঘ্যের চেয়েও বড়, যেখানে দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব নিচুতে অবস্থিত—ফলে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা মারাত্মক।

দক্ষিণ জ্যামাইকার কয়েকটি এলাকা, বিশেষ করে ঐতিহাসিক পোর্ট রয়াল শহরে বাধ্যতামূলকভাবে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করার কয়েক ঘণ্টা পরই প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস বিদেশি সহায়তার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন, কৃষিজমি, ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক, বন্দর ও বিমানবন্দরে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

তবে অনেক বাসিন্দা লুটপাটের আশঙ্কায় ঘর ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ২৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হোলনেস বলেন, ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার ঝড় সহ্য করার মতো অবকাঠামো আমাদের অঞ্চলে নেই।

তিনি জানান, সরকার জরুরি প্রতিক্রিয়ার জন্য ৩৩ মিলিয়ন ডলারের বাজেট ও বীমা ও ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা রেখেছে, যা গত বছরের বিধ্বংসী হারিকেন বেরিল-এর ক্ষতির চেয়েও কিছুটা বেশি।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জলবায়ু পরিবর্তন ঝড়গুলোকে আরও দ্রুত ও শক্তিশালী করে তুলছে।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।