জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা দরকার দুই লাখ রোহিঙ্গা শিশুর : ইউনিসেফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৪২ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭
জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা দরকার দুই লাখ রোহিঙ্গা শিশুর : ইউনিসেফ

রাখাইনে সেনাবাহিনীর তাণ্ডবে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা চার লাখের বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে দুই লাখের বেশি শিশু। এসব শিশুদের জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা দরকার বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

জাতিসংঘের হিসাবে ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই শিশু। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসা এসব শিশুরা অনাহারে, অর্ধাহারে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

কক্সবাজারের উখিয়া, কিংবা চট্টগ্রামের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা রোহিঙ্গারা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে বেশিরভাগ রোহিঙ্গার। পর্যাপ্ত পরিমাণে স্যানিটেশন সুবিধাও নেই সেখানে। ফলে যে পানিতে বর্জ্য মিশছে, সেই পানি দিয়েই চলছে রান্নার কাজ।

rohingya

ইউনিসেফ'র শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান জ্যঁ লিবি জানান, ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে ইউনিসেফের সহায়তায় জরুরি সামগ্রী কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্যাম্পগুলোয় বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার বলেও জানান তিনি।

খাবারের অভাবে এবং দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এসে স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর মায়েরাও সেভাবে তাদের সন্তানের যত্ন নিতে পারছে না। শিশুকে ঠিকমতো বুকের দুধ খাওয়াতে না পারায় তাদের শারীরিক অবস্থা একেবারে হাড্ডিসার হয়ে যাচ্ছে।

জ্বরে ভুগলেও কোলে নিয়ে বসে থাকা ছাড়া রোহিঙ্গা মায়েদের করার কিছুই নেই। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এবং বিভিন্ন সংস্থা স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকলেও রোহিঙ্গাদের বিশাল জনগোষ্ঠির কাছে তা একেবারেই কম।

rohingya

ইউনিসেফ জানায়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় পরিবার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এক হাজার একশ ২৮ জন শিশু। যেভাবে মানুষ আসছে আগামীতে এ সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।

ইউনিসেফ-বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা ইউনিটেরে প্রধান জঁ লিবির দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, যেভাবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হয়েছে, তা অভাবনীয়। প্রাথমিক তথ্য থেকে বলা যায়, মিয়ানমার থেকে এ যাবৎ যত রোহিঙ্গা এসেছে, এর মধ্যে ৬০ শতাংশই শিশু।

সূত্র : ইনডিপেন্ডেন্ট

কেএ/আইআই


টাইমলাইন