পরিবেশ দূষণ
এস এ এফ ট্যানারির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার তালতলা এলাকায় ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত পরিবেশ দূষণকারী এস এ এফ ট্যানারির সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পরিবেশগত ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত ট্যানারিটির সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলেও রায়ে জানিয়েছেন আদালত।
রায়ে ট্যানারিটির কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), পরিবেশ অধিদপ্তর (মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট) পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (খুলনা বিভাগ) পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (যশোর জেলা কার্যালয়) উপ-পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
জনস্বার্থে পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন বেলা’র করা রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
এদিন আদালতে বেলা’র পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী ও এস. হাসানুল বান্না।
এস এ এফ ট্যানারিটি ১৯৮০ সাল থেকে আইনের বাধ্যতামূলক পরিবেশগত ছাড়পত্র, ইটিপি এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়াই চালু আছে। এ প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সরাসরি ভৈরব নদীতে ফেলা হয়। একাধিকবার সতর্ক ও জরিমানা করা সত্ত্বেও আইন অমান্য করে দূষণ কার্যক্রম চালু রাখায় জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে বেলা।
রিটে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), যশোর জেলা প্রশাসক (ডিসি), যশোর পুলিশ সুপার (এসপি), পরিবেশ অধিদপ্তরের (মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট) পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের (খুলনা বিভাগীয়) পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (যশোর জেলা কার্যালয়) উপ-পরিচালক, অভয়নগরের এস এ এফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বিবাদী করা হয়।
আইনজীবী হাসানুল বান্না জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ না করা পর্যন্ত ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত এস এ এফ ট্যানারির সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এফএইচ/এমকেআর/এএসএম