বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস
ডায়াবেটিস রোগীদের চোখে গ্লুকোমার ঝুঁকি কেন প্রায় দ্বিগুণ
গ্লুকোমা হলো চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে গিয়ে দৃষ্টির প্রধান স্নায়ু বা অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এর ফলে কোনো লক্ষণ ছাড়াই মানুষ ধীরে ধীরে স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। কারণ ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় না, এটি শরীরের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চোখের যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আজ (১১ মার্চ) বিশ্ব গ্লুকোমা দিবসে জেনে নিন কেন ডায়াবেটিস রোগীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন ও এর প্রতিরোধে কী করবেন?
ডায়াবেটিস ও গ্লুকোমার সম্পর্ক কী?
১. গ্লুকোমার ঝুঁকি বেশি থাকে
গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাইমারি ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪৮ শতাংশ বেশি। এটি গ্লুকোমার সবচেয়ে সাধারণ ধরন, যেখানে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ ধীরে ধীরে বেড়ে গিয়ে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করে।
২. নিউওভাসকুলার গ্লুকোমার ঝুঁকি
ডায়াবেটিস দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চোখের রেটিনায় রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে। তখন সেখানে অস্বাভাবিক নতুন রক্তনালি তৈরি হয়—যাকে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বলা হয়। এই নতুন রক্তনালিগুলো চোখের ভেতরের তরল বের হওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দিতে পারে, ফলে চোখের চাপ বেড়ে গিয়ে গ্লুকোমা তৈরি হতে পারে।
৩. চোখের রক্তনালির ক্ষতি
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে রক্তের উচ্চ শর্করা চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলোকে দুর্বল করে দেয়। এতে অপটিক নার্ভে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ কমে যায় এবং নার্ভটি চাপের প্রতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ফলে গ্লুকোমার ঝুঁকি বাড়ে।

৪. চোখে প্রোটিন জমা হওয়া
রক্তে অতিরিক্ত শর্করার কারণে চোখে ‘ফাইব্রোনেকটিন’ নামের এক ধরনের প্রোটিন জমতে পারে। এটি চোখের ভেতরের তরল বের হওয়ার পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ে।
কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন?
গ্লুকোমা অনেক সময় ধীরে ধীরে বাড়ে এবং শুরুতে স্পষ্ট লক্ষণ নাও থাকতে পারে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে কিছু লক্ষণের ক্ষেত্রে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া দরকার -
১. চোখে ঝাপসা দেখা
২. চোখে চাপ বা ব্যথা
৩. আলোতে রিং বা হ্যালো দেখা
৪. ধীরে ধীরে পাশের দিকের দৃষ্টি কমে যাওয়া
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?
>> রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
>> বছরে অন্তত একবার চোখের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করান।
>> নিয়মিত রেটিনা ও চোখের চাপ (আই প্রেসার) পরীক্ষা করান।
>> চোখে অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস থাকলেও নিয়মিত পরীক্ষা ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে চোখের অনেক জটিলতা আগেই ধরা সম্ভব। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চোখের নিয়মিত পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: গ্লুকোমা রিসার্চ ফাউন্ডেশন, আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট
এএমপি/এএসএম