লেপ-কম্বলের আরামেই লুকিয়ে আছে স্বাস্থ্যের ক্ষতি
শীতে লেপ-কম্বলের উষ্ণতা যেন ঘুমকে আরও টেনে ধরে। নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে একটু বেশি ঘুমালে তা আরামদায়কই মনে হয়। কিন্তু এই ‘আরাম’ যদি নিয়মে পরিণত হয়, তখনই সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমই সুস্থতার জন্য যথেষ্ট। কম ঘুম যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত ঘুমও শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শীতকালে লেপ-কম্বল মুড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘুমানোর অভ্যাসে যে ঝুঁকিগুলো দেখা দিতে পারে, সেগুলো জেনে নেওয়া জরুরি।
ঘুম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। ক্লান্তি দূর করা, মানসিক স্থিতি বজায় রাখা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে ঘুমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঘুমালে শারীরিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুম শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, শীতে বেশি ঘুমানোর সম্ভাব্য পাঁচটি স্বাস্থ্যঝুঁকি।
ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বাড়ে: দীর্ঘসময় ঘুমালে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।
ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা: অতিরিক্ত ঘুম মানেই কম নড়াচড়া। ফলে ক্যালরি খরচ কম হয় এবং ওজন বাড়তে শুরু করে। শুধু তাই নয়, বেশি ঘুম হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এর ফলে ঘন ঘন খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়, যা স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

হতাশা বাড়তে পারে: অতিরিক্ত ঘুম ও ডিপ্রেশনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মানসিক চাপ থেকে কেউ বেশি ঘুমাতে পারেন, আবার বেশি ঘুম নিজেই হতাশাকে তীব্র করে তুলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
হৃদরোগের ঝুঁকি: যারা নিয়মিত ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তাদের হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। অতিরিক্ত ঘুম রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
শরীর ব্যথা ও অস্বস্তি: একই ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ ঘুমালে পিঠ, ঘাড় ও জয়েন্টে চাপ পড়ে। এতে ব্যথা, অস্বস্তি কিংবা পেশিতে টান ধরতে পারে। অস্বাস্থ্যকর বিছানা বা বালিশ ব্যবহারে সমস্যা আরও বাড়ে। রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হলে ঘাড় ও মেরুদণ্ডে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন:
- শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো উপকার না ক্ষতি?
- শীতের অজুহাতে শরীরের সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করছেন না তো
- শীতে হাতের ত্বক নরম রাখার ঘরোয়া উপায়
অতিরিক্ত ঘুম নিয়ন্ত্রণে করণীয়
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস করুন।
- পুষ্টিকর খাবার খান এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বাড়ান।
- ঘুমের পরিবেশ আরামদায়ক রাখুন, যাতে অল্প সময়ে গভীর ঘুম হয়।
- মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন বা মনোযোগ বৃদ্ধির চর্চা করুন।
- ঘুমের আগে হালকা স্ট্রেচিং করলে শরীর আরাম পায়।
পরিমিত ঘুমই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। শীতে আরামের লোভে অতিরিক্ত ঘুম নয়; সময় মেপে ঘুমান, সুস্থ থাকুন।
তথ্যসূত্র: ওয়েবএমডি
জেএস/