জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নের রূপরেখা
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের উপায় বা রূপরেখা সম্পর্কিত সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তান্তর করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। গত বছরের অক্টোবরে কমিশন গঠন, পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অব্যাহত আলোচনা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সই শেষে বাস্তবায়নের রূপরেখা জমা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ সুপারিশ জমা দেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা। এসময় কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
পরে বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জুলাই সনদের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
ঐকমত্য কমিশন ঐক্যের বদলে ‘জাতীয় অনৈক্য’ করার প্রচেষ্টা নিয়েছে
জাতীয় নির্বাচনের দিন বা আগে গণভোটের সুপারিশ
নির্বাচনের আগে গণভোটের সুযোগ নেই: আমীর খসরু
নভেম্বরেই গণভোট চায় জামায়াত
ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এগুলো হলো: সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, পুলিশ ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এবং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। এ ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকারের কাছে উপস্থাপন করার পর অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে ঐকমত্য কমিশন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, কমিশনের মূলকাজ ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট জবাবদিহির ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, স্থায়ীভাবে গণতান্ত্রিক রূপরেখা নির্ধারণ, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণরোধ এবং গণতান্ত্রিকভাবে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব কি না তার ওপর সুপারিশ পেশ করা।
তিনি বলেন, ছয়টি কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে ১৬৬টি সুপারিশ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়ে মতামত সংগ্রহ করে ঐকমত্য কমিশন। এরপর মার্চ মাস থেকে দুই মাস ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনার মাধ্যমে মতামত চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে, রাজনৈতিক দলগুলো কমিশনের কাছে ১৬৬টি সুপারিশের ব্যাপারে লিখিতভাবে তাদের মতামত জমা দেয়।
তিনি আরও বলেন, জুন মাস থেকে কমিশন ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একসঙ্গে বসে কমপক্ষে ২০টি মৌলিক সংস্কারের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ৬৪টি বিষয়ে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। এরপর এই ২০টি বিষয়ে দুই মাস ধরে অব্যাহতভাবে আলোচনায় অংশ নেওয়া হয়।
এ প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর খসড়া তৈরি করা হয়। যেখানে সব রাজনৈতিক দলের মতামত সন্নিবেশিত করা হয়। জুলাই মাসের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলো কমিশনের কাছে অনুরোধ করে, যাতে সরকারকে সুপারিশ দেওয়া হয় এবং যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হওয়া গেছে সেগুলো বাস্তবায়নে পথনির্দেশ দেওয়া হয়। কমিশনের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং এর অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়। অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক আলোচনাও করা হয়।
এমইউ/এমএএইচ/এমএস