খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে হুজাইফার, নেওয়া হচ্ছে ঢাকায়
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফে রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা আফনান লাইফ সাপোর্টে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন।
তিনি জাগো নিউজকে জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আফনানকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। গুলিটি এখনো মস্তিষ্কের ভেতরেই রয়ে গেছে, যা বের করা সম্ভব হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে তাকে পাঠানো হচ্ছে উন্নত চিকিৎসার জন্য। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শিশু আফনানের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে তাকে দ্রুত রাজধানীতে স্থানান্তরের সুপারিশ করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির মস্তিষ্কে গুলি অবস্থান করায় মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সেই চাপ কমাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এটি একটি স্বীকৃত মেডিকেল প্রসিডিউর এবং চিকিৎসারই অংশ।
চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, গুলিটি মস্তিষ্কের পেছনের অংশের খুব কাছাকাছি রয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি আছে। এই অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে শিশুটির জীবনঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আফনানের চাচা শওকত আলী জানান, গুলিটি মুখ দিয়ে ঢুকে সরাসরি মস্তিষ্কে চলে গেছে। দ্রুত তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতে অস্ত্রোপচারের চেষ্টা করা হলেও ঝুঁকি বেশি থাকায় গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলটি সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে।
গত রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকার সময় স্কুলছাত্রী হুজাইফা আফনান গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ সময় সে লাইফ সাপোর্টে ছিল।
এমআরএএইচ/বিএ/জেআইএম