রোহিঙ্গা নির্যাতন গণহত্যার শামিল : মানবাধিকার কমিশন
রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতন করে দেশত্যাগে বাধ্য করা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।
তিনি বলেন, এ ধরনের জঘন্যতম ঘটনা গণহত্যার শামিল। যেটা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সময় ঘটেছিল।
বুধবার বিকালে কারওয়ানবাজারস্থ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে করণীয় কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আশক), ইউনিসেফ, নাগরিক উদ্যোগ, নিজেরা করি, মহিলা পরিষদ, অপরাজয় বাংলাদেশ, ওয়াল্ড ভিশন, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া কমিশনের সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, এনামুল হক চৌধুরী, নুরুন্নাহার ওসমানী, আখতার হোসেন, খুশি কবীর, মেঘনা গু. ঠাকুরতা, বাঞ্চিতা চাকমাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব মিয়ানমার রাষ্ট্রের। তাদেরই এ ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে।
তবে রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ অন্যান্য সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে। মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তারা ১০ সেপ্টেম্বর উখিয়া সফর করবেন। তারা ফিরে এলে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এছাড়া অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- দেশের সব মানবাধিকার সংগঠনকে নিয়ে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি, ঢাকায় দু’দিনব্যপী সেমিনার, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে চাপ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্র ও তাদের মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারকে পত্র প্রেরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে চিঠি প্রেরণ, ওআইসি মহাসচিবকে অবহিত করা হবে।
এফএইচ/এএইচ/জেআইএম