অপরাধী না হয়েও ‘স্বেচ্ছায় বন্দিত্ব’
আগামী ৬ অক্টোবর সারাদেশে একযোগে এমবিবিএস প্রথম শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে প্রস্তুতি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রশ্নপত্র ছাপানোর কাজে গ্রাম থেকে আনা হয়েছে এক ডজনের বেশি নিরক্ষর তরুণকে। যারা দিনমজুর হিসেবে ছাপাখানায় কাজ করবেন।
রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্জন কক্ষে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। উপার্জনের আশায় স্বেচ্ছায় বন্দিত্ব বরণ করেছেন তারা।
শুধুমাত্র প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেয়ার সময়টুকু ছাড়া দিনরাত ২৪ ঘণ্টা-ই একটি কক্ষে থাকতে হচ্ছে তাদের।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, তরুণরা পেশায় দিনমজুর। আসন্ন (৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিতব্য এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপাখানায় কাজের জন্য সম্প্রতি তাদের ‘স্বেচ্ছায় বন্দি’ থাকার শর্তে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওরা সকলেই নিরক্ষর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ছাপার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন সাবেক পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্বাসযোগ্য লোকের মাধ্যমে সাধারণত গ্রাম থেকে ওদের নিয়ে আসা হয়। প্রথমেই ওদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশি প্রহরায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে বসে ওরা কাজ করেন। সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার তাদের ওই কক্ষেই সরবরাহ করা হয়। শুধু তাই নয়, তাদের গতিবিধি গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনোভাবেই যেন প্রশ্ন ফাঁস না হয় সে জন্যই ওদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কক্ষে বন্দি রাখা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রশীদ বলেন, ৮২ হাজার শিক্ষার্থীও জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য ছাপাখানার লোকজন ছাড়াও সহায়ক বেশকিছু দিনমজুর প্রয়োজন হয়। ওদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত একটি কক্ষে থেকে (পরিবার পরিজনের সঙ্গেও এ সময় যোগাযোগ করতে পারবে না) কাজের শর্তেই ওদের নিয়োগ দেয়া হয়। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ছাপার কাজটি গোপনীয় বিধায় তিনি ওই ধরনের শ্রমিকের সঠিক সংখ্যা জানাতে রাজি হননি। তবে নির্ভরযোগ্য অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই শ্রমিকের সংখ্যা ১২ জনের বেশি।
আগামী শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীসহ সারাদেশের ২০টি কেন্দ্রে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে এ পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলবে।
বর্তমানে দেশে সরকারি ৩১টি ও বেসরকারি ৬৯টিসহ মোট ১০০টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এগুলোতে মোট আসন সংখ্যা নয় হাজার ৫৬৮টি। এর মধ্যে সরকারিতে তিন হাজার ৩১৮ এবং বেসরকারিতে ছয় হাজার ২৫০টি আসন রয়েছে। চলতি বছরের পরীক্ষায় ৮২ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।
এমইউ/একে/আইআই