‘ইভিএমই ভালো’
প্রথমবারের মতো গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কিছু ভোটার ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ইভিএমে ভোট দিতে পারায় ভোটাররা বেশ খুশি।
তারা বলছেন, আগের পদ্ধতির তুলনায় ইভিএম আনেক ভালো এবং ভোট দেয়াও সহজ। এ পদ্ধতিতে ভোট করাচুপির সুযোগও কম।
এবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোট নেয়া হয়েছে ৪২৫টি কেন্দ্রে। এরমধ্যে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন ছয় কেন্দ্রের ভোটাররা।
এরই একটি রাণী বিলাসমণি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়। কেন্দ্রটিতে ভোট দেয়া নাজমা আক্তার বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এর আগে অনেক বার ভোট দিয়েছি। কিন্তু ইভিএমে এবারই প্রথম ভোট দিলাম।
তিনি বলেন, প্রথমে মনে করেছিলাম ইভিএমে ভোট দেয়া বেশ ঝামেলার। কিন্তু ভোট দিতে গিয়ে দেখি এটাই ভালো পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ভোট দেয়া খুব সহজ। আগের পদ্ধতির মতো কোনো ঝামেলা নেই। আগে ছিল মারতে গেলে বা ব্যালট ভাজ করতে গেলে ভোট নষ্ট হতো, ইভিএমে সেই সমস্য নেই।
কেন্দ্রটিতে ভোট দেয়া আর এক ভোটার ফাতেমা বলেন, ইভিএম খুব ভালো পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ভোট দেয়া খুব সহজ। কোনো ঝামেলা নেই। কারচুপিরও সুযোগ নেই।
কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা এক পুলিশ সদস্য বলেন, যারা ভোট দিতে আসছেন তাদেরকে বুঝিয়ে দিচ্ছি কীভাবে ভোট দিতে হয়। এরপরও কিছু ভোটার কেন্দ্রের ভিতরে গিয়ে সমস্যায় পড়লে বা বুঝতে সমস্যা হলে স্যাররা দেখিয়ে দিচ্ছেন। ফলে প্রথম হলেও ইভিএমে ভোট দিতে ভোটারদের সমস্যা হচ্ছে না।

ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে পারা ভোটাররা সন্তুষ্ট প্রকাশ করলেও কিছু ভোটার ভোট দিতে না পারায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এমন একজন খাদিজা বেগম। তিনি বলেন, আমার ভোটার নম্বর যিনি দিয়েছেন, তিনি বলেছেন আমার ভোট রাণী বিলাসমণি কেন্দ্রে। কিন্তু এখানে এসে এ লাইন ওই লাইন ঘুরেও ভোট দিতে পারিনি। পরে একজন বলেন আমার ভোট এ কেন্দ্রে নয়, অন্য কেন্দ্রে।
সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ভোট দিতে কোনো ঝামেলা নেই। ভোটাররা ইভিএমে সহজেই ভোট দিচ্ছেন। কারও কোনো অভিযোগ নেই।
কি পরিমাণ ভোট পড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ কেন্দ্রে দুই হাজার ৭৭ জন ভোটার। বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৮০০ এর মতো ভোট পড়েছে।
এত কম ভোট পড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোটাররা কম আসছেন। তবে যারা আসছেন সবাই ভোট দিতে পারছেন। গেটে লোক রয়েছে তারা বুঝিয়ে দিচ্ছে কীভাবে ভোট দিতে হবে। এরপর কারও বুঝতে সমস্যা হলে কেন্দ্রের ভিতরেও তাকে বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে।
এমএএস/এএইচ/এমএস