নানা ভোগান্তি তবুও রোগীদের ভরসা বিএসএমএমইউ আউটডোর

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:১৮ পিএম, ০৭ অক্টোবর ২০১৯

হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে হাটবাজার কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশস্থল। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ হাজারও মানুষের জমায়েত। সাপের লেজের মতো সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা, ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া, ডাক্তার দেখানো, ডাক্তারের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য নমুনা দেয়া কিংবা পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য অপেক্ষার প্রহর গোনা। এ ধরনের কাজে অসংখ্য মানুষকে ম্যানেজ করতে নিরাপত্ত‌ারক্ষীসহ অন্যদের হিমশিম খেতে দেখা যায়।

এ দৃশ্যপট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্থাপিত দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) আউটডোরের নিত্যদিনের। সুদৃশ্য ভবনের এ আউটডোরে গুণগতমানের সেবা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন সারাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর নিদারুণ কষ্ট সহ্য করে হলেও সুচিকিৎসার আশায় তারা তা মনে নিচ্ছেন।

bsmmu

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, আউটডোরের ১ নম্বর ভবনের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরে রোগী ও তাদের সঙ্গে অভিভাবক-স্বজনদের ভিড়।

bsmmu

রোগীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, মাত্র ৩০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু বিভাগ ও সাব স্পেশালিটি বিভাগের ডাক্তার দেখিয়ে উন্নত চিকিৎসা লাভের সুযোগ পেতে তারা এখানে ছুটে আসেন।

bsmmu

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএসএমএমইউ আউটডোরে প্রতিদিন গড়ে আট থেকে ১০ হাজার রোগীর আগমন ঘটে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ডাক্তার-নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা খুবই ব্যস্ত সময় কাটান। জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।

bsmmu

রাজধানীর রায়েরবাজারের বাসিন্দা আনসার আলী বলেন, এখানে চিকিৎসা ভালো। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মানও ভালো। তবে রোগীর ভিড় বেশি হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, এটাই কষ্ট।

মনোয়ারা নামের এক নারী সাত-আট বছরের মেয়েকে নিয়ে টিকিট কাউন্টার খুঁজছিলেন। মেয়েটিকে ‘ব্যাংকে টাকা জমা নেয়া হয়’ সাইনবোর্ড পড়ে মাকে লাইনে দাঁড়‌াতে বলতে দেখা যায়।

bsmmu

মনোয়ারা বলেন, ‘পেটে টিউমার অইছে। মহল্লার ডাক্তার বলেছে, এখানকার আউটডোরে ভালো ডাক্তার আছে। তার পরামর্শে এখানে এসেছি। সকাল ৯টায় এসে ১১টায় ডাক্তার দেখাতে পারি নাই।’

তিনি বলেন, লম্বা লাইন ধরে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে টিকিট কেটে ডাক্তার দেখাতে দুই ঘণ্টা লেগেছে।

bsmmu

তবে একাধিক রোগী জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে জানান, বিএসএমএমইউ আউটডোরে রোগীদের জন্য সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা বিএসএমএমইউ কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জন্য রাখা পৃথক কাউন্টার। টিকিট সংগ্রহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, টাকা জমা দেয়া কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট ডেলিভারি নেয়ার জন্য বিভিন্ন কাউন্টারে সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আলাদা কাউন্টার আছে। প্রতি তিনজনে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার-পরিজনের টিকিট দেয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, বিএসএমএমইউয়ের একশ্রেণির কর্মচারী ৫০ থেকে ১০০ টাকা উৎকোচ নিয়ে সাধারণ রোগীদের আত্মীয় বানান। ফলে ওই কাউন্টারে ভিড় লেগেই থাকে। এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বজনদের তর্ক-বিতর্ক এমনকি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এমইউ/বিএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।