যেভাবে মেট্রোরেল প্রকল্পের মালামাল চুরি করতো সংঘবদ্ধ চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৮ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাজধানীর শাহ আলী এলাকা থেকে মেট্রোরেল প্রকল্পের মালামাল চুরির সংঘবদ্ধ চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪। এ সময় চোরাই ১৮টি আইবিমসহ একটি ট্রাক, একটি প্রাইভেটকার ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়।

সংঘবদ্ধ চক্রের ১১ সদস্যের মধ্যে মূল চোর চারজন। তারা হলেন- মো. মোতালেব শিকদার (৫৪), মো. নজরুল ইসলাম (৪৪), মো. হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়া (৪৩) ও মো. ওয়ালীউল্লাহ ওরফে বাবু (৪১)।

এ চক্রে দালাল পাঁচজন। তারা হলেন- সুমন ঘোষ (৪৩), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৮), মো. আ. ছাত্তার (৫৮), মো. আশিক (৩১) ও মো. আমজাদ হোসেন রাজন (৩৬)। মেট্রোরেলের চোরাই জিনিসপত্র কেনা দলে থাকেন দু’জন। তারা হলেন- মো. মনির (৪০) ও মো. রিয়াজুল (২০)।

jagonews24

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় র‍্যাব-৪ এর অপারেশন অফিসার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন এলাকায় সংঘবদ্ধ একটি চোরাকারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মেট্রোরেল প্রকল্প ছাড়াও সরকারের আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আইবিম, অপ্রয়োজনীয় লোহা, ইস্পাত, তার, মেশিন কৌশলে চুরি করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চোরাই দল বিভিন্ন পন্থায় দ্রুত খণ্ড খণ্ড করে কেটে তা বিভিন্ন ভাঙারি ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে র‍্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চোরাই ১৮টি আইবিম যার ওজন ৪০ টন (বাজার মূল্য ২৫ লাখ টাকা), একটি ট্রাক, একটি প্রাইভেটকার, নগদ ৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা ও ১৬টি মোবাইলসহ সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানান, তারা একটি বিশেষ সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্রের সঙ্গেও জড়িত। তারা পরস্পর যোগসাজোশে কিছুদিন ধরে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আইবিমসহ অপ্রয়োজনীয় লোহা, ইস্পাত, তার, মেশিন কৌশলে চুরির পর খণ্ড খণ্ড করে কেটে তা বিভিন্ন ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন।

অপরাধের কৌশল

কয়েক বছর ধরে ঢাকাসহ আশপাশ জেলায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব প্রকল্প কার্যক্রম চলাকালীন প্রয়োজনীয় উপকরণ স্তূপ আকারে থাকাকালে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি দল কৌশলে গোপন একটি জায়গায় নিয়ে সেগুলো ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। চোরাই চক্রটি মূলত এ চুরির কাজটি বিভিন্ন ধাপে কাজ করেন।

তথ্য প্রদান

প্রথমে এই চোরাকারবারি চক্রটি কৌশলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে এবং সে অনুযায়ী চুরির পরিকল্পনা করে।

jagonews24

সাহায্যকারী ব্যক্তি

পরবর্তীতে চক্রটি প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রজেক্টের অন্যান্য লোকজনের সহায়তায় বিভিন্ন উপকরণ চুরি করে তাদের পছন্দ মতো গোপন একটি জায়গায় নিয়ে লুকিয়ে রাখে।

দালাল চক্র

এ ধাপে একটি গ্রুপ চোরাই উপকরণ পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে সহজে বহনযোগ্য করে। পরবর্তীতে মালামালগুলো দালাল চক্র প্রথম ধাপের চোরাই দলের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।

ইচ্ছুক ক্রেতা

এ ধাপে মূলত চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রির কাজটি করে। চক্রটি তাদের চোরাই মালামাল পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে আগে থেকে নির্ধারিত ক্রেতাদের কাছে নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রি করেন। চোরাই চক্রসহ অন্যান্য চক্রের আরও অনেক পলাতক সদস্য রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত বলে জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

টিটি/এমআরএম/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]