থানায় অভিযোগ না নিলে ডিবি কার্যালয়ে আসবেন: হারুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৬ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

সাধারণ নগরবাসীর উদ্দেশ্যে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ও ডিবি-উত্তর) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেছেন, যারা ডাকাতির শিকার হয়েছেন, তারা অনেক সময় থানায় অভিযোগ করতে চান না। মনে করেন যে, টাকা খোয়া গেছে এটা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবেন না। অনেক সময় থানায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিতে চাইলে ডিবি কার্যালয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) নয় ছিনতাইকারীকে গ্রেফতারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশীদ বলেন, আপনারদের যদি কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাদের সঙ্গে যেতে বলে যাচাই না করে তাদের সঙ্গে যাবেন না। এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে কাছাকাছি থানায় অথবা জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ অবহিত করবেন। সরাসরি মহানগর গোয়েন্দা অফিসে এসে কেউ অভিযোগ করলেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ডাকাতি কিংবা ছিনতাইয়ের পর অনেকেই মনে করে জানে বেঁচে গেছি, শুকরিয়া। এ নিয়ে আর কোনো অভিযোগ করবেন না। আমরা বলতে চাই, ছিনতাই কিংবা ডাকাতির শিকার হওয়ার পর কাছের থানায় অভিযোগ করবেন। যদি থানা অভিযোগ না নেয় তাহলে সরাসরি ডিবি কার্যালয়ে চলে আসবেন। ডিবিতে অভিযোগ দেওয়ার পর অন্তত আমরা কিছুদিন সময় নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এরই মধ্যে ডিবি অনেক ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের ধরেছে, অনেককে জেলে পাঠানো হয়েছে। একটি গ্রুপ জেলে গেলেই নতুন আরেকটি গ্রুপ তৈরি হয়। মোহাম্মদপুর থেকেও এর আগে অনেক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবির এ কর্মকর্তা আরও বলেন, হাতে ওয়ারলেস সেট, গায়ে র্যাব, ডিবি ও পুলিশের জ্যাকেট পরা দেখলেই তাদের পুলিশ বা র্যাব মনে করবেন না। তাদের যাচাই করুন। তারা সত্যিকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কিনা তা নিশ্চিত হয়ে কথা বলুন। প্রয়োজনে মানুষ জড়ো করুন। কাছের থানা পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিন।

২৬ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মতিঝিল এলাকা থেকে ওই নয় ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে ডিবির গুলশান বিভাগ। অভিযানের নেতৃত্ব দেন গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মশিউর রহমান।

গ্রেফতাররা হলেন- আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইমদাদুল শরীফ, খোকন, মাসুদুর রহমান তুহিন, মামুন শিকদার, কমল হোসেন, ওয়াহিদুল ইসলাম, ফারুক বেপারী ও মতিউর রহমান। এ চক্রটি ডিবি ও র্যাবের পরিচয় মানুষকে তুলে নিয়ে ছিনতাই করে তাদের নির্জন জায়গায় ফেলে রাখতো।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি, একটি পিস্তল, এক জোড়া হাতকড়া, ট্রাভেল ব্যাগ, দু’টি জ্যাকেট, চারটি নতুন গামছা, একটি প্রাইভেটকার, একটি মাইক্রোবাস ও পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানান, তারা ব্যাংকের কাছে দাঁড়িয়ে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তিদের টার্গেট করেন। টার্গেট করা ব্যক্তিকে অনুসরণ করে সুবিধাজনক স্থানে পৌঁছার পর তাদের সঙ্গে থাকা ডিবির জ্যাকেট পরে ওই ব্যক্তির গতিরোধ করেন। এসময় ওয়াকিটকি দেখিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিকে কোনো একটা অপরাধ করার অজুহাত দেখিয়ে হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে তুলে নেন।

ডিবি উত্তরের যুগ্ম-কমিশনার আরও জানান, এরপর কিছুদূর গাড়ি চালানোর পর তাদের কাছ থাকা টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী কেড়ে নেয় চক্রটি। শেষে গামছা দিয়ে ভুক্তভোগীর চোখ বেঁধে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে দেয়।

টিটি/এমএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]