নির্বাচনে জোট গঠন করলেও নতুন বন্দোবস্তের লড়াই চলবে: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে জোট গঠন করলেও নতুন বন্দোবস্তের লড়াই চলমান। ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা।
শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে দলটির ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির জন্য আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। যখন আমরা গণঅভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছি। সেই দল একটি জোট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এখানে কতগুলো বিষয় আসছে- যেগুলো পুরো এনসিপির চলার সঙ্গে সম্পর্কিত। যখন জাতীয় নাগরিক পার্টি আমরা শুরু করি, আমরা কতগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়ে, ঘোষণাপত্র দিয়ে শুরু করেছিলাম।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের দলের নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমাদের যেই চিন্তা বা আদর্শের জায়গাটা, সেটাও গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমরা আগস্টে শহীদ মিনারে স্পষ্টত কয়েকটি কথা বলেছিলাম। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং একটা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। অর্থাৎ একটা ফ্যাসিবাদী যে সিস্টেম আমাদের গত ১৬ বছরে তৈরি হয়েছে, গত ৫০ বছরে স্বাধীনতার পর থেকেই যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে এবং যেটার কারণে আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রে কখনো পৌঁছাতে পারিনি।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময় বা বিগত রেজিম এদের একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। যেটা বাংলাদেশের মানুষের ওপরে ব্যাপক দমন-পীড়ন, নির্যাতন চলে। আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল।আমাদের জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছিল, জুলাইয়ের পরিস্থিতিতে সারাদেশের মানুষ রাজপথে নিয়ে এসে সেই ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম। এই ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করে একটা নতুন বন্দোবস্ত করতে হবে, যে বন্দোবস্তটা বাংলাদেশের স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।
আরও পড়ুন
তারুণ্য ও মর্যাদার ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা এনসিপির
দীর্ঘদিনের দলীয়করণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে: আসিফ মাহমুদ
নাহিদ ইসলাম বলেন, এটা গণতন্ত্র নিশ্চিত করবে। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করবে। এটা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ আমাদের জন্য নিশ্চিত করবে। আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য- সেগুলাকে লক্ষ্য করে আমরা জাতীয় মর্যাদা নিয়ে বিশ্বের বুকে দাঁড়াতে পারবো। এটা ছিল আমাদের প্রাথমিক আকাঙ্ক্ষা। সেই জায়গা থেকে অন্তর্বর্তী সরকার এবং গত দেড় বছরের অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে আমরা আজকের পরিস্থিতিতে আছি।
তিনি বলেন, আমরা জোট করার ফলে এই প্রশ্নটা অনেকবার এসেছে। পক্ষে বিপক্ষে সমালোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে। আমরা আমাদের যে নতুন বন্দোবস্তের যে লড়াই বা যে দাবি নিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম, আমরা এখনো সেই দাবিতেই আছি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমত আমাদের লক্ষ্য ছিল যে সাংবিধানিক পরিবর্তন। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম, কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে একটা সংস্কারে এসে মধ্যস্থতা হয়। কমিশনের মাধ্যমে সেখানে আমরা আমাদের পরিপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারিনি। নতুন বন্দোবস্তের যে আকাঙ্ক্ষাটা সেই সেটা আমরা এখন একটা দীর্ঘমেয়াদি লড়াই হিসেবে দেখি, দীর্ঘমেয়াদি যাত্রার মধ্যে অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা অনেক সুযোগ মিস করেছি, কিন্তু এই সময় আমাদের অনেক সম্ভাবনা এবং আমাদের অনেক কিছু অর্জন হয়েছে। ফলে সংস্কারের অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি আমরা পেয়েছি, যেটা নির্বাচনে গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এর মাধ্যমে আমরা নতুন বন্দোবস্তে সেই লড়াইয়ের দিকে যাবো।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দ্বিতীয়ত, এই জোট প্রক্রিয়া অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন যে আমাদের এই যে লক্ষ্য নতুন বন্দোবস্তের- পুরোনো দলের সঙ্গে যোগ করার ফলে লক্ষ্য থেকে আমরা সরে আসলাম কি না! আমরা এটা স্পষ্ট করেছি যে, আমাদের যে জোটটা ন্যূনতম কিছু রাজনৈতিক জায়গায় ঐকমত্য রয়েছে এবং মূলত এটা নির্বাচনি একটা জোট এই জোটের নামও ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। আমাদের চেষ্টা থাকবে এই জোটের মধ্য দিয়ে আমাদের সংস্কারের যে দাবি, আমরা সেটাকে বাস্তবায়ন করবো। আমাদের প্রায়োরিটি আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো। এ কারণে আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে একটা আলাদা ইশতেহার দিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী তাদের একটা ইশতেহার দিয়েছে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ২৪- এর প্রজন্ম, একটা নতুন প্রজন্ম আকারে বাংলাদেশে আবির্ভূত হয়েছে। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক জায়গায় আমরা এই প্রজন্মকে কীভাবে কাজে লাগাবো? এ কারণে তারুণ্য আমাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা, সেকেন্ড হচ্ছে মর্যাদা বা ডিগনিটি। কারণ আমরা মনে করি যে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল ডিগনিটি।
ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে এনসিপির শীর্ষ নেতারা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিতি ছিলেন। এসময় দলটি তাদের ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে।
এনএস/কেএসআর